রবার্তো ব্যাজিওর সেই পেনাল্টি মিস (১৯৯৪)
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল। ইতালি বনাম ব্রাজিল ম্যাচ গড়িয়েছে টাইব্রেকারে। ইতালির শেষ শটটি নেওয়ার জন্য এগিয়ে এলেন রবার্তো ব্যাজিও, যিনি টুর্নামেন্টে ইতালিকে একাই টেনে তুলেছিলেন ফাইনালে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে,
'দ্য ডিভাইন পনিটেল' নামে খ্যাত এই মহাতারকার শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। [10, 4] সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিলের উল্লাসের বিপরীতে ক্যামেরায় ধরা পড়ে ব্যাজিওর নতজানু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সেই আইকনিক দৃশ্য। একজন নায়কের মুহূর্তের মধ্যে খলনায়কে পরিণত হওয়ার এই ট্র্যাজেডি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা করুণ আখ্যান হয়ে আছে। [11] তার ওই একটি মিস ইতালির স্বপ্ন চুরমার করে দেয় এবং কোটি ভক্তকে হতাশায় ডুবিয়ে দেয়।
জিদানের শেষ ম্যাচের লাল কার্ড (২০০৬)
ফুটবলের জাদুকর জিনেদিন জিদানের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ ছিল ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল। [18] ফ্রান্সের হয়ে প্রায় একাই দলকে ফাইনালে তোলা জিদান ইতালির বিপক্ষে গোলও করেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জির সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। মাতেরাজ্জি জিদানের বোনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলে জিদান মেজাজ হারিয়ে তাকে সজোরে মাথা দিয়ে বুকে আঘাত করেন। [2, 18] রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। [6] বিশ্বকাপ ট্রফির পাশ দিয়ে জিদানের মাথা নিচু করে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্যটি আজও ফুটবলপ্রেমীদের কাঁদায়। ১০ জনের ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে যায় এবং একজন কিংবদন্তির এমন দুর্ভাগ্যজনক বিদায় ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকে। [7, 16]
নেইমারের ভাঙা স্বপ্ন ও ব্রাজিলের লজ্জা (২০১৪)
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ, নেইমারের কাঁধে গোটা ব্রাজিলের স্বপ্ন। কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলার সময় দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্ডার হুয়ান সুনিগার হাঁটুর আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নেইমার। তার মেরুদণ্ডের কশেরুকা ভেঙে যায় এবং বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যান তিনি। স্ট্রেচারে করে নেইমারের কান্নাভেজা বিদায় গোটা স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। নেইমারকে ছাড়া পরের সেমিফাইনালে জার্মানির মুখোমুখি হয় ব্রাজিল এবং ৭-১ গোলের এক ঐতিহাসিক লজ্জাজনক ব্যবধানে হেরে যায়। দেশের সেরা তারকার অনুপস্থিতি এবং সেই হারের যন্ত্রণা ব্রাজিলিয়ানদের জন্য এক জাতীয় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছিল।
ট্রফির পাশে মেসির শূন্য দৃষ্টি (২০১৪)
২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল লিওনেল মেসির জন্য নিজেকে প্রমাণের সেরা মঞ্চ। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন তিনি। [5, 9] কিন্তু ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোৎজের এক গোলে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে যায়। [17] পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে, বিশ্বকাপ ট্রফির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মেসির শূন্য, বিষণ্ণ দৃষ্টির একটি ছবি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। [5] সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ এবং স্বপ্ন পূরণের এত কাছে এসেও তা ছুঁতে না পারার যন্ত্রণা সমর্থকদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছিল। [19] মেসি নিজেও পরে জানিয়েছিলেন, ওই হারের যন্ত্রণা তাকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। [5]
রোনাল্ডোর কান্নাভেজা বিদায় (২০২২)
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ ছিল কাতার ২০২২। পর্তুগালের হয়ে অধরা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যায় পর্তুগাল। [1, 3] ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর রোনাল্ডো কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং কাঁদতে কাঁদতে টানেল দিয়ে মাঠ ছাড়েন। [8] ৩৭ বছর বয়সী এই মহাতারকার জন্য বিশ্বকাপ জয়ের শেষ সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার এই কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তকে, এমনকি তার প্রতিদ্বন্দ্বী মেসির সমর্থকদেরও। [1] এই মুহূর্তটি বুঝিয়ে দেয়, সেরাদেরও স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা কতটা তীব্র হতে পারে।












