দৈনিক ৬,০০০ ক্যালোরির মিশন
সাধারণ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যেখানে দিনে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার ক্যালোরি প্রয়োজন, সেখানে নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার প্রতিদিন গ্রহণ করেন প্রায় ৬,০০০ ক্যালোরি। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ ক্যালোরি কোনো
জাঙ্ক ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে আসে না। হালান্ডের ডায়েট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং এর প্রতিটি উপাদান তার শারীরিক সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি লম্বা এই অ্যাথলিটের শরীরকে একটি যন্ত্রের মতো সচল রাখতে এই বিপুল পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, যা তাকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত করে।
প্লেটে থাকে হৃৎপিণ্ড ও কলিজা
হালান্ডের খাবারের তালিকার সবচেয়ে আশ্চর্যজনক এবং আলোচিত অংশ হলো গরুর হৃৎপিণ্ড ও কলিজা। 'হালান্ড: দ্য বিগ ডিসিশন' নামক এক তথ্যচিত্রে তিনি নিজেই এই অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, শরীরের সেরা যত্ন নিতে স্থানীয় খামারের সেরা খাবারই খাওয়া উচিত। তার মতে, ফাস্টফুডের প্রক্রিয়াজাত মাংসের চেয়ে ঘাস খেয়ে বড় হওয়া গরুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনেক বেশি পুষ্টিকর। পুষ্টিবিদরাও এই কথার সঙ্গে একমত। গরুর হৃৎপিণ্ড ও কলিজা ভিটামিন বি, আয়রন, ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদানে ভরপুর, যা পেশি গঠন এবং দ্রুত শারীরিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।
জাদুকরী পানীয় এবং বিশেষ খাবার
খাবারের পাশাপাশি পানীয়ের ক্ষেত্রেও হালান্ড খুব সচেতন। তিনি সাধারণ পানির পরিবর্তে একটি বিশেষ ফিল্টার সিস্টেম ব্যবহার করেন। এছাড়া, তার একটি 'ম্যাজিক পোশন' বা জাদুকরী পানীয় রয়েছে, যা মূলত কাঁচা দুধ, কেল (এক প্রকার পাতাকপি) এবং পালং শাকের মিশ্রণ। তিনি কফিকে একটি 'সুপারফুড' হিসেবে দেখেন এবং কাঁচা দুধের সঙ্গেই তা পান করতে পছন্দ করেন। তার খাদ্যতালিকায় আরও থাকে সোর্ডফিশ, অ্যাসপারাগাস, এগ ফ্রায়েড রাইস, এবং বাবার হাতে তৈরি করা লাসানিয়া, যা তিনি প্রতিটি হোম ম্যাচের আগে খান। সম্প্রতি ভারতীয় খাবারের প্রতিও তার দুর্বলতার কথা জানা গেছে; বাটার চিকেন ও গার্লিক নান তার অন্যতম প্রিয় খাবার।
খরচের চূড়ান্ত হিসাব
এবার আসা যাক মূল প্রশ্নে, এই বিপুল পরিমাণ ও বিশেষ ধরনের খাবারের পেছনে তার দৈনিক খরচ কত? এর কোনো সঠিক ও رسمی হিসাব না থাকলেও, বিভিন্ন ব্রিটিশ গণমাধ্যমের রিপোর্ট এবং তার খাবারের তালিকা বিশ্লেষণ করে একটি ধারণা পাওয়া যায়। হালান্ড স্থানীয় ও অরগ্যানিক খাবারের ওপর জোর দেন, যার দাম সাধারণ খাবারের চেয়ে অনেক বেশি। যেমন, ঘাস খেয়ে বড় হওয়া গরুর অরগ্যানিক হৃৎপিণ্ড, কলিজা বা টমাহক স্টেকের দাম সাধারণ মাংসের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। বিশেষ ফিল্টার করা পানি, কাঁচা দুধ এবং অন্যান্য উচ্চমানের উপাদানগুলোও বেশ ব্যয়বহুল। এর সঙ্গে যোগ হয় তার ব্যক্তিগত শেফ ও পুষ্টিবিদের খরচ। কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, তার বাড়িতে প্রায় ৫০,০০০ পাউন্ড মূল্যের একটি ক্রায়োথেরাপি চেম্বার রয়েছে, যা তার ফিটনেস রুটিনের অংশ। সব মিলিয়ে, শুধুমাত্র খাবারের পেছনে হালান্ডের সাপ্তাহিক খরচ কয়েক হাজার পাউন্ড হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় লক্ষাধিক। এই বিপুল খরচ তার কাছে একটি বিনিয়োগ, যা তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।












