১০. মারিও গোতজে (জার্মানি, ২০১৪)
ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম জার্মানির ফাইনাল যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে, তখন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মারিও গোতজে। ম্যাচের ১১৩ মিনিটে আন্দ্রে শুর্লের ক্রস বুকে রিসিভ করে এক অসাধারণ
ভলিতে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। এই একমাত্র গোলেই জার্মানি চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে। এই গোলটি ছিল প্রতিভা এবং চাপের মুখে冷静 থাকার এক দারুণ উদাহরণ।
৯. হোর্হে বুরুচাগা (আর্জেন্টিনা, ১৯৮৬)
১৯৮৬ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও একসময় ২-২ সমতায় আটকে যায়। ম্যাচ যখন শেষের দিকে, তখন দিয়েগো ম্যারাডোনার বাড়ানো এক জাদুকরী পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ এনে দেন হোর্হে বুরুচাগা। এই গোলটি ম্যারাডোনার একক নৈপুণ্যে ভরা টুর্নামেন্টের উপযুক্ত সমাপ্তি ছিল।
৮. রোনালদো (ব্রাজিল, ২০০২)
১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে রহস্যময় অসুস্থতার কারণে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন রোনালদো। কিন্তু চার বছর পর ২০০২ সালে জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে তিনি নিজের জাত চেনান। ফাইনালে দুটি গোল করে তিনি শুধু ব্রাজিলকে পঞ্চম বিশ্বকাপই জেতাননি, নিজের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্পও পূর্ণ করেন। তার দ্বিতীয় গোলটি ছিল নিখুঁত ফিনিশিংয়ের দুর্দান্ত উদাহরণ।
৭. জিওফ হার্স্ট (ইংল্যান্ড, ১৯৬৬)
ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে জিওফ হার্স্টের করা গোলটি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিতর্কিত গোলগুলোর একটি। তার শট ক্রসবারে লেগে গোললাইনে ড্রপ করে, কিন্তু বলটি সম্পূর্ণভাবে লাইন অতিক্রম করেছিল কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক আজও অমীমাংসিত। রেফারি গোলের নির্দেশ দিলে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে ম্যাচ জেতে। এটি ইংল্যান্ডের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়।
৬. জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স, ১৯৯৮)
ঘরের মাঠ স্তাদ দে ফ্রান্স-এ শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনাল। ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রে ব্রাজিলের রোনালদো, কিন্তু ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন জিনেদিন জিদান। কর্নার থেকে দুটি দুর্দান্ত হেডে গোল করে তিনি ফ্রান্সকে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তার এই জোড়া গোলই ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
৫. হেলমুট রান (পশ্চিম জার্মানি, ১৯৫৪)
‘দ্য মিরাকল অফ বার্ন’ নামে পরিচিত এই ফাইনালে হাঙ্গেরির অপ্রতিরোধ্য ‘ম্যাজিকাল ম্যাগিয়ার্স’ দলের মুখোমুখি হয়েছিল পশ্চিম জার্মানি। ৮ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে পিছিয়ে পরেও জার্মানি ঘুরে দাঁড়ায়। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে হেলমুট রান গোল করে ৩-২ ব্যবধানে দলকে এগিয়ে দেন, যা জার্মানির প্রথম বিশ্বকাপ জয় নিশ্চিত করে। এই জয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জার্মানির জন্য ছিল এক নতুন সূচনার প্রতীক।
৪. পেলে (ব্রাজিল, ১৯৫৮)
মাত্র ১৭ বছর বয়সে সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালে নেমেছিলেন পেলে। ফাইনালে তিনি দুটি গোল করেন। তার প্রথম গোলটি ছিল অবিশ্বাস্য। ডিফেন্ডারের মাথার উপর দিয়ে বল তুলে নিয়ে ঘুরে জোরালো ভলিতে জালে জড়ান তিনি। এই গোলটি কেবল পেলের আগমনের বার্তাই দেয়নি, বরং ব্রাজিলকে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে huge ভূমিকা রেখেছিল।
৩. মার্কো টার্ডেলি (ইতালি, ১৯৮২)
পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে ইতালির ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার গোলটি করেছিলেন মার্কো টার্ডেলি। কিন্তু গোলের চেয়েও বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে তার উদযাপন। গোল করার পর তিনি যেভাবে চিৎকার করতে করতে দৌড়েছিলেন, তা ছিল純粹 আনন্দ এবং আবেগের এক বন্য প্রকাশ। ঐ উদযাপন বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা আইকনিক মুহূর্ত হয়ে আছে।
২. আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (স্পেন, ২০১০)
দক্ষিণ আফ্রিকায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এক রূক্ষ এবং শারীরিক ফাইনাল যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ত্রাতা হয়ে আসেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। অতিরিক্ত সময়ের ১১৬ মিনিটে সেস ফ্যাব্রিগাসের পাস থেকে বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করে স্পেনকে তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেন তিনি। স্পেনের ‘টিকি-টাকা’ যুগের স্বর্ণশিখরে পৌঁছানোর মুহূর্ত ছিল সেটি।
১. কার্লোস আলবার্তো (ব্রাজিল, ১৯৭০)
এই গোলটি কেবল একটি গোল নয়, এটি একটি কবিতা। ১৯৭০ সালের ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে ব্রাজিলের করা চতুর্থ গোলটিকে প্রায়শই ‘পারফেক্ট গোল’ বা ‘টিম গোল’-এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নিজেদের অর্ধে শুরু হওয়া আক্রমণে দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ের ছোঁয়া নিয়ে বল শেষ পর্যন্ত আসে পেলের কাছে। পেলে না দেখেই ডান দিকে একটি নিখুঁত পাস বাড়ান, যেখানে রকেটের গতিতে ছুটে এসে কার্লোস আলবার্তো জোরালো শটে গোল করেন। এই গোলটি ছিল সেই কিংবদন্তি ব্রাজিল দলের শৈল্পিক ফুটবলের সারসংক্ষেপ।








