বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
বিশ্বকাপের মঞ্চে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি লিওনেল মেসির দখলে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নেমেই তিনি জার্মানির লোথার ম্যাথাউসের ২৫ ম্যাচের রেকর্ড ভেঙে দেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলে তিনি সেই সংখ্যাকে
আরও অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলে মেসি তার মোট ম্যাচ সংখ্যা ৩৩-এ উন্নীত করেছেন। এই রেকর্ডটি ভাঙতে হলে একজন খেলোয়াড়কে অন্তত পাঁচটি বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে খেলতে হবে এবং প্রতিবারই দলকে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে, যা এককথায় প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। তার এই দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স এবং ফিটনেস তাকে এই অনন্য রেকর্ডের মালিক করেছে।
অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
অধিনায়ক হিসেবেও বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড মেসির। ২০২২ বিশ্বকাপেই তিনি মেক্সিকোর রাফা মার্কেজের ১৭ ম্যাচের রেকর্ড পেছনে ফেলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি এই রেকর্ডকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। একজন খেলোয়াড়ের ওপর দলের আস্থা এবং তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতার চূড়ান্ত নিদর্শন এই রেকর্ড। বছরের পর বছর ধরে একটি দেশের ফুটবল দলের আর্মব্যান্ড পরা এবং দলকে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়া এক বিরাট দায়িত্ব। মেসি সেই দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালন করেছেন, যা এই রেকর্ডটিকে প্রায় অটুট করে তুলেছে।
সবচেয়ে বেশি 'ম্যান অফ দ্য ম্যাচ'
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক 'ম্যান অফ দ্য ম্যাচ' পুরস্কার জয়ের রেকর্ডটিও মেসির। কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্তই তিনি ১১ বার এই পুরস্কার জিতেছিলেন, যা ছিল অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি এই ধারা অব্যাহত রেখেছেন এবং তার মোট সংখ্যাকে ১৫-তে উন্নীত করেছেন। একটি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হওয়া মানে সেই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলা। মেসি যে কতগুলো ম্যাচে একাই খেলার ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন, এই রেকর্ডটি তারই প্রমাণ। এই কীর্তি ছোঁয়া অন্য কোনো খেলোয়াড়ের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে, কারণ এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি ম্যাচে đỉnhস্থানীয় পারফরম্যান্স ধরে রাখা।
দুটি গোল্ডেন বল জয়ী একমাত্র খেলোয়াড়
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় 'গোল্ডেন বল' পুরস্কার। ফুটবল ইতিহাসে মেসিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুবার এই সম্মান অর্জন করেছেন। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হলেও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০২২ সালে কাতারে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পথেও তিনি জেতেন গোল্ডেন বল। একজন খেলোয়াড়ের জন্য একটি বিশ্বকাপেই সেরা হওয়া স্বপ্নের মতো, সেখানে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার এই রেকর্ড মেসির শ্রেষ্ঠত্বের এক অসামান্য দলিল। এই রেকর্ডটি ভাঙা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হয়।
এক আসরের সব নকআউট পর্বে গোল
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মেসি এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন। তিনি ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একটি বিশ্বকাপের শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে গোল করার রেকর্ড করেন। বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার যে অবিশ্বাস্য ক্ষমতা তার রয়েছে, এই রেকর্ডটি সে কথাই বলে। চাপের মুখে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার এই ধারাবাহিকতা ফুটবল ইতিহাসে বিরল। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৩২ দলের ফরম্যাট চালু হওয়ায় এবং নকআউট পর্ব একটি বেড়ে যাওয়ায় এই রেকর্ডটি আরও বেশি সুরক্ষিত হয়ে গেছে।
ছয়টি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করা একমাত্র খেলোয়াড়
মেসি শুধু গোলদাতা হিসেবেই নন, প্লে-মেকার হিসেবেও কিংবদন্তি। তিনি ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বকাপে সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন (অ্যাসিস্ট করেছেন)। ২০২২ বিশ্বকাপেই তিনি পাঁচটি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড গড়েছিলেন, যা পেলে বা ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিদেরও ছিল না। ২০২৬ সালে এই রেকর্ডকে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে নেন। প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে একইসঙ্গে গোল করা এবং করানোর এই ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে এবং এই রেকর্ডটিকে প্রায় অটুট করে দিয়েছে।














