শীর্ষে কোন দেশ? অবাক করা তথ্য
পরিসংখ্যান বলছে, লিওনেল মেসির সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ হলো বলিভিয়া। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির বিরুদ্ধে মেসি সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন। বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে তিনি বলিভিয়ার জালে বল জড়িয়েছেন
১১ বার। এই গোলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে, যখন তিনি একটি হ্যাটট্রিক করে পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা হয়েছিলেন। এই তথ্য অনেককেই অবাক করতে পারে, কারণ ব্রাজিল বা জার্মানির মতো বড় দলগুলোর নামই হয়তো প্রথমে মাথায় আসে। কিন্তু সংখ্যাতত্ত্ব অন্য গল্পই বলছে। বলিভিয়ার বিপক্ষে মেসির ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে এই তালিকার শীর্ষে স্থান দিয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য শিকার
বলিভিয়ার পর মেসির পছন্দের তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশ। ইকুয়েডরের বিপক্ষে তার গোল সংখ্যা ৭টি। এ ছাড়া, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও তার রেকর্ড বেশ ভালো। এই দুটি দলের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তিনি ৬টি করে গোল করেছেন। কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে এই গোলগুলো এসেছে, যা দল হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বহুবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছে। চিলির বিপক্ষেও তার গোলসংখ্যা ৫। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে লাতিন আমেরিকার দলগুলোর বিপক্ষে মেসি কতটা বিধ্বংসী হতে পারেন।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল এবং অন্যান্যরা
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচ মানেই অন্যরকম উত্তেজনা। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচেও মেসি তার ছাপ রেখেছেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে তিনি মোট ৫টি গোল করেছেন। যদিও এটি তার সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা নয়, তবে এই ম্যাচগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি গোলই বিশেষ। এর মধ্যে ২০১২ সালে এক প্রীতি ম্যাচে করা দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকটি ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজও গেঁথে আছে। এ ছাড়া মেক্সিকো এবং পানামার মতো কনকাকাফ অঞ্চলের দলের বিপক্ষেও তার গোল আছে ৪টি করে। এই পরিসংখ্যান মেসির বিশ্বব্যাপী প্রভাবের প্রমাণ দেয়।
ইউরোপিয়ানদের বিরুদ্ধে রেকর্ড কেমন?
ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে মেসির রেকর্ড কেমন, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ইউরোপের একটি দেশের বিপক্ষেই তিনি এক ম্যাচে ৫ গোল করার বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ২০২২ সালে এস্তোনিয়ার বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে মেসি একাই পাঁচবার বল জালে জড়ান, যা আর্জেন্টিনার হয়ে এক ম্যাচে তার সর্বোচ্চ। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি এসেছিল। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও রয়েছে তার। যদিও ইউরোপের বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ কম হয়, কিন্তু যখনই সুযোগ পেয়েছেন, মেসি তার জাত চিনিয়েছেন।
প্রীতি ম্যাচ বনাম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ
মেসির মোট গোলের একটি বড় অংশ এসেছে প্রীতি ম্যাচে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তার করা গোলের মধ্যে ৫৪টি গোলই এসেছে প্রীতি ম্যাচ থেকে। তবে এর গুরুত্ব কোনোভাবেই কম নয়। এই ম্যাচগুলোই দলকে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি ৩৬টি গোল করেছেন, যা কনমেবল অঞ্চলে একটি রেকর্ড। কোপা আমেরিকায় তার গোল সংখ্যা ১৪ এবং ফিফা বিশ্বকাপে তিনি রেকর্ড ২১টি গোল করেছেন। এই তথ্য দেখায় যে, বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার ক্ষেত্রেও মেসি অতুলনীয়।












