লিভারের সমস্যা ও ত্বকের পরিবর্তন
লিভারের সমস্যার অন্যতম একটি সাধারণ এবং পরিচিত লক্ষণ হলো জন্ডিস, যেখানে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। [7, 18, 21] এর মূল কারণ হলো রক্তে বিলিরুবিন নামক একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থের মাত্রা বেড়ে যাওয়া।
[13, 18] সুস্থ লিভার বিলিরুবিনকে শরীর থেকে ছেঁকে বের করে দেয়, কিন্তু লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয়, ফলে বিলিরুবিন শরীরে জমতে শুরু করে এবং ত্বক হলুদ দেখায়। [21, 29] জন্ডিস ছাড়াও, লিভারের রোগে ত্বকে প্রচণ্ড চুলকানি হতে পারে, যা অনেক সময় কোনো র্যাশ ছাড়াই হয়। [9, 27] শরীরে পিত্ত লবণ জমে যাওয়ার কারণে এই চুলকানি হতে পারে। [29] এছাড়াও, ত্বকের উপর মাকড়সার জালের মতো ছোট ছোট লাল রক্তনালী দেখা যেতে পারে, যা 'স্পাইডার অ্যাঞ্জিওমা' নামে পরিচিত। [16, 18]
কিডনির অসুস্থতা কীভাবে ত্বকে প্রকাশ পায়?
কিডনি রোগের ক্ষেত্রেও ত্বকে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ ঠিকমতো বের করতে না পারলে, সেই টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ রক্তে জমতে শুরু করে, যা ত্বকে নানা প্রভাব ফেলে। [3, 5] ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD)-এর রোগীদের ত্বক অস্বাভাবিকভাবে শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যেতে পারে। [2, 4] এর পাশাপাশি, সারা শরীরে তীব্র চুলকানি, যা ইউরেমিক প্রুরিটাস (Uremic Pruritus) নামে পরিচিত, একটি সাধারণ উপসর্গ। [22, 24] কিডনির সমস্যায় ত্বকের রঙ পরিবর্তন হতে পারে; যেমন ত্বক ফ্যাকাশে, হলদেটে বা ধূসর বর্ণ ধারণ করতে পারে। [10, 17] শরীরে ইউরোক্রোম নামক বর্জ্য পদার্থ জমার কারণে ত্বকে হলদে ভাব দেখা দিতে পারে। [17] কিছু ক্ষেত্রে, ত্বকের নিচে ক্যালসিয়াম জমে শক্ত বাম্প বা গুটি তৈরি হতে পারে। [3, 4]
ত্বকের রঙ পরিবর্তনের অন্যান্য কারণ
লিভার বা কিডনির সমস্যা ছাড়াও ত্বকের রঙ বদলানোর পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই হঠাৎ পরিবর্তন দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার কারণে ত্বক ফ্যাকাশে দেখাতে পারে। [26] ডায়াবেটিসের কারণে অনেক সময় ঘাড়, বগল বা শরীরের অন্যান্য ভাঁজে কালচে ছোপ দেখা যায়। [26] একইভাবে, থাইরয়েডের সমস্যাও ত্বকের শুষ্কতা বা রঙ পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। সূর্যের আলোর অতিরিক্ত সংস্পর্শে আসা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বা ভিটিলিগোর (শ্বেতী) মতো ত্বকের নির্দিষ্ট রোগের কারণেও রঙের পরিবর্তন হতে পারে। [26] তাই যেকোনো সিদ্ধান্তে আসার আগে একজন বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ত্বকের রঙের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন, বিশেষ করে যদি তা হঠাৎ করে হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, তবে তাকে অবহেলা করা উচিত নয়। [26] যদি ত্বকের রঙ পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্যান্য কিছু লক্ষণও দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া আবশ্যক। এই লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে شدید ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, প্রস্রাবের রঙে পরিবর্তন (যেমন গাঢ় হলুদ বা বাদামী), পেট ব্যথা বা ফোলাভাব, এবং হাত-পা বা মুখ ফুলে যাওয়া। [8, 12, 30] ত্বকের তীব্র চুলকানি যা সাধারণ ক্রিমে সারে না, সেটিও একটি সতর্ক সংকেত। [22, 23] মনে রাখবেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব। [9] নিজে থেকে কোনো রোগ নির্ণয় না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, যিনি সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করতে পারবেন।








