১০. পাওলো রসি (ইতালি, ১৯৮২)
১৯৮২ বিশ্বকাপে পাওলো রসি ছিলেন এক প্রত্যাবর্তনের নায়ক। টুর্নামেন্টের শুরুতে গোলখরায় ভুগলেও নকআউটে জ্বলে ওঠেন তিনি। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ইতালি যখন ১-০ গোলে এগিয়ে, তখন ম্যাচের প্রথম গোলটি
আসে রসির দুর্দান্ত এক হেডে। এই গোলটিই জার্মানির প্রতিরোধ ভেঙে দেয় এবং ইতালি ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতে তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। রসি টুর্নামেন্টে গোল্ডেন বুট এবং গোল্ডেন বল উভয়ই জেতেন।
৯. আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (স্পেন, ২০১০)
২০১০ সালের ফাইনাল ছিল শারীরিক শক্তি ও কৌশলের লড়াই। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে اسپেনের টিকিটাকা ছন্দ খুঁজে পেতে লড়াই করছিল। ম্যাচ যখন গোলশূন্য ড্র নিয়ে পেনাল্টি শুটআউটের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। অতিরিক্ত সময়ের ১১৬ মিনিটে সেস ফ্যাব্রেগাসের পাস থেকে জোরালো শটে গোল করে স্পেনকে তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন তিনি। চরম উত্তেজনার মুহূর্তে এমন গোল তাকে অমর করে রেখেছে।
৮. মারিও কেম্পেস (আর্জেন্টিনা, ১৯৭৮)
ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে মারিও কেম্পেস ছিলেন আর্জেন্টিনার প্রধান তারকা। ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিনিই ছিলেন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক। প্রথমে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। ডাচরা সমতা ফেরানোর পর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে কেম্পেস আবার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এবং পরে তৃতীয় গোলেও তার অবদান ছিল। তার জোড়া গোলেই আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে এবং কেম্পেস টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।
৭. জিওফ হার্স্ট (ইংল্যান্ড, ১৯৬৬)
২০২২ সালের আগে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে একমাত্র হ্যাটট্রিকটি ছিল জিওফ হার্স্টের। ১৯৬৬ সালে ওয়েম্বলিতে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন। তার প্রথম গোলটি ছিল সমতাসূচক হেডার। অতিরিক্ত সময়ে করা তার দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, শেষ মিনিটে করা তৃতীয় গোলটি ইংল্যান্ডের ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে। দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন হার্স্ট।
৬. রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল, ২০০২)
১৯৯৮ সালের ফাইনালে রহস্যময় অসুস্থতার কারণে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। কিন্তু ২০০২ বিশ্বকাপ ছিল তার প্রায়শ্চিত্তের মঞ্চ। ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে, যেখানে গোলরক্ষক ছিলেন অপ্রতিরোধ্য অলিভার কান, সেখানে রোনালদো করেন জোড়া গোল। তার এই পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে পঞ্চমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করে এবং রোনালদো ব্যক্তিগতভাবে গোল্ডেন বুট জেতেন। এটি ছিল ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের গল্প।
৫. পেলে (ব্রাজিল, ১৯৫৮)
মাত্র ১৭ বছর বয়সে সুইডেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলাটাই ছিল বিস্ময়কর। কিন্তু পেলে শুধু খেলেননি, বিশ্বকে নিজের আগমনী বার্তাও দিয়েছিলেন। ফাইনালে তিনি দুটি গোল করেন। তার প্রথম গোলটি ছিল শিল্পের ছোঁয়া—বুকের উপর বল রিসিভ করে ডিফেন্ডারের মাথার উপর দিয়ে ফ্লিক করে নিখুঁত ভলিতে জালে জড়ানো। এই পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেয় এবং এক কিশোরকে ফুটবলের রাজপুত্র বানিয়ে দেয়।
৪. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স, ২০২২)
ফাইনালে হেরেও কীভাবে নায়ক হওয়া যায়, তার সেরা উদাহরণ কিলিয়ান এমবাপের পারফরম্যান্স। প্রায় ৮০ মিনিট পর্যন্ত নিষ্প্রভ থাকা ফ্রান্স যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে, তখন মাত্র ৯৭ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া গোল করে দলকে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফেরান এমবাপে। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা আবার এগিয়ে গেলে, শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি। জিওফ হার্স্টের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও তার দল হেরে যায়, কিন্তু তার এই লড়াই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
৩. জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স, ১৯৯৮)
ঘরের মাঠে ফ্রান্সের উপর ছিল 엄청 চাপ, আর প্রতিপক্ষ ছিল রোনালদোর অপ্রতিরোধ্য ব্রাজিল। কিন্তু জিনেদিন জিদান একাই ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেন। মিডফিল্ডে আধিপত্য দেখানোর পাশাপাশি কর্নার থেকে দুটি অসাধারণ হেডে গোল করে প্রথমার্ধেই ফ্রান্সকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন। তার এই জোড়া গোলই ব্রাজিলের মনোবল ভেঙে দেয় এবং ফ্রান্স ৩-০ গোলে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে। এটি ছিল জিদানের কিংবদন্তি হয়ে ওঠার রাত।
২. ডিয়েগো ম্যারাডোনা (আর্জেন্টিনা, ১৯৮৬)
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপটি একক দক্ষতায় কীভাবে জেতা যায়, তার প্রদর্শনী করেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে তিনি কোনো গোল করেননি, কিন্তু পুরো ম্যাচে তাকে ডাবল মার্কিংয়ে রেখেও আটকানো যায়নি। জার্মানি যখন ২-২ গোলে সমতায় ফিরেছিল, তখন ম্যারাডোনার জাদুকরী এক পাস থেকে হোর্হে বুরুচাগা জয়সূচক গোলটি করেন। গোল না করেও ফাইনালে কীভাবে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হওয়া যায়, তার নিখুঁত উদাহরণ ছিলেন ম্যারাডোনা।
১. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, ২০২২)
ফুটবলের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ফাইনালে লিওনেল মেসি তার ক্যারিয়ারের অপূর্ণতা পূরণ করেন। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। অতিরিক্ত সময়ে যখন ম্যাচের ভাগ্য দুলছিল, তখন আবার গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষে পেনাল্টি শুটআউটেও গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। দুটি গোল, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার এবং অবশেষে বিশ্বকাপ—মেসির এই পারফরম্যান্স তাকে সর্বকালের সেরাদের বিতর্কে আলাদা জায়গা করে দিয়েছে।







