‘আর্টিকেল ৩৭০’-এর অভূতপূর্ব সাফল্য
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া ‘আর্টিকেল ৩৭০’ বক্স অফিসে ঝড় তোলে। প্রায় ২০ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি এই ছবি বিশ্বজুড়ে ১১০ কোটিরও বেশি ব্যবসা করে। কিন্তু শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সাফল্যই নয়, ছবিটি সমালোচকদের
কাছেও ব্যাপক প্রশংসা পায়। ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রেক্ষাপট এবং তার পেছনের ঘটনা। এই রাজনৈতিক থ্রিলারে ইয়ামি গৌতমকে দেখা যায় জুনি হাকসার নামে এক গোয়েন্দা ಅಧಿಕಾರিকের ভূমিকায়। তাঁর চরিত্রটি ছিল দৃঢ়, বুদ্ধিদীপ্ত এবং আপসহীন। সমালোচকরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে ইয়ামি একা কাঁধে ছবিটিকে টেনে নিয়ে গেছেন। তাঁর তীব্র এবং সংযত অভিনয় দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ছবিতে ইয়ামি তাঁর অভিনয় দক্ষতার এক নতুন দিক উন্মোচন করেছেন।
কেরিয়ারের বাঁকবদলকারী অভিনয়?
২০১২ সালে ‘ভিকি ডোনার’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন ইয়ামি গৌতম। প্রথম ছবিতেই তাঁর সাবলীল অভিনয় নজর কাড়ে। এরপর ‘বদলাপুর’, ‘কাবিল’, ‘বালা’ এবং ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর মতো সফল ছবিতে তিনি কাজ করেছেন। তবে ‘এ থার্সডে’, ‘লস্ট’ এবং এখন ‘আর্টিকেল ৩৭০’-এর মতো ছবিগুলিতে তাঁর পরিণত অভিনয়ের সাক্ষী থেকেছেন দর্শকরা। এই ছবিগুলিতে তিনি বার বার প্রমাণ করেছেন যে শুধুমাত্র গ্ল্যামার নয়, জটিল এবং গভীর চরিত্রেও তিনি সমান স্বচ্ছন্দ। ‘আর্টিকেল ৩৭০’-এ জুনি হাকসারের চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য ইয়ামি যে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তা পর্দায় স্পষ্ট। সংলাপ বলা থেকে শুরু করে অ্যাকশন দৃশ্যে তাঁর পারদর্শিতা, সবকিছুই ছিল নিখুঁত। তাই অনেক চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই পারফরম্যান্সটি তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
জাতীয় পুরস্কারের দৌড় কতটা কঠিন
ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেশের সবচেয়ে সম্মানজনক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাওয়ার জন্য বাণিজ্যিক সাফল্যের চেয়েও অভিনয়ের সূক্ষ্মতা, চরিত্রের গভীরতা এবং শৈল্পিক উৎকর্ষকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। শাবানা আজমি, স্মিতা পাতিলের মতো কিংবদন্তি অভিনেত্রীরা অতীতে এই পুরস্কার পেয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঙ্গনা রানাউত, বিদ্যা বালানের মতো অভিনেত্রীরা তাঁদের শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য এই সম্মান অর্জন করেছেন। জাতীয় পুরস্কারের জুরি বোর্ড সবসময়ই এমন পারফরম্যান্সকে স্বীকৃতি দেয় যা গতানুগতিকতার ঊর্ধ্বে গিয়ে নতুন কিছু স্থাপন করে। ইয়ামির অভিনয় এই সমস্ত মাপকাঠির অনেকগুলোই পূরণ করে। ছবিতে তাঁর চরিত্রায়ন, বিশেষ করে কাশ্মীরের মতো একটি সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে একজন নারীর ক্ষমতায়নের চিত্রায়ণ, তাঁকে এই পুরস্কারের দৌড়ে একজন শক্তিশালী প্রতিযোগী করে তুলেছে।
দর্শক ও সমালোচকদের রায়
‘আর্টিকেল ৩৭০’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শক এবং সমালোচক, উভয় মহল থেকেই ইয়ামির অভিনয়ের প্রশংসা এসেছে। অনেকেই তাঁর এই ভূমিকাকে ‘কেরিয়ার-ডিফাইনিং’ বলে অভিহিত করেছেন। ছবিটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও, ইয়ামির অভিনয় নিয়ে প্রায় কেউই দ্বিমত পোষণ করেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকরা তাঁর পারফরম্যান্সকে 'অসাধারণ' এবং 'বিদ্যুৎপ্রবাহী' বলে বর্ণনা করেছেন। অনেক সমালোচক লিখেছেন যে, ইয়ামি এই চরিত্রের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে তিনি কতটা বহুমুখী অভিনেত্রী এবং একা একটি ছবির দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এই ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা জাতীয় পুরস্কারের জুরিদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করলেও করতে পারে, কারণ দর্শক ও সমালোচকদের সম্মিলিত প্রশংসা উপেক্ষা করা কঠিন।














