দুধসাগর জলপ্রপাত, গোয়া
‘দুধের সাগর’ নামটির যথার্থতা প্রমাণ করে গোয়া ও কর্ণাটক সীমান্তে অবস্থিত এই জলপ্রপাত। বর্ষাকালে যখন মাণ্ডবী নদী জলে পরিপূর্ণ থাকে, তখন প্রায় ৩০ মিটার চওড়া এবং ৩১০ মিটার উঁচু থেকে দুধের মতো সাদা জলের ধারা
প্রবল বেগে নেমে আসে। এই জলপ্রপাতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য হলো এর সামনে দিয়ে যাওয়া রেলপথ। বর্ষায় কুয়াশাচ্ছন্ন সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে যখন ট্রেন চলে, তখন প্রকৃতির এক অসাধারণ রূপ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। পানাজি থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। ট্রেনে চড়ে ক্যাসল রক বা কুলেম স্টেশনে নেমে ট্রেকিং করে বা জিপ ভাড়া করে এখানে পৌঁছানো যায়।
যোগ জলপ্রপাত, কর্ণাটক
ভারতের অন্যতম উচ্চতম এই জলপ্রপাতটি কর্ণাটকের শিমোগা জেলায় অবস্থিত। বর্ষার সময়ে শরাবতী নদীর জল প্রায় ৮৩০ ফুট উচ্চতা থেকে চারটি ধারায়—রাজা, রানি, রকেট এবং রোরার—বিশাল গর্জনের সাথে নীচে আছড়ে পড়ে। এই দৃশ্য পর্যটকদের কাছে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। চারপাশের সবুজ পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং মেঘে ঢাকা পরিবেশ এর সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। কলকাতা থেকে ট্রেনে হুবলি পৌঁছে, সেখান থেকে বাসে বা গাড়ি ভাড়া করে যোগ জলপ্রপাতে যাওয়া যায়।
আথিরাপল্লী জলপ্রপাত, কেরালা
কেরালার থ্রিসুর জেলায় অবস্থিত আথিরাপল্লী জলপ্রপাতকে প্রায়শই ‘ভারতের নায়াগ্রা’ বলা হয়। বর্ষাকালে চালাকুডি নদীর জলস্তর বেড়ে গেলে প্রায় ৩৩০ ফুট চওড়া এই জলপ্রপাত এক ভয়ঙ্কর সুন্দর রূপ ধারণ করে। ঘন শোলা বন এবং সবুজে ঘেরা এই জলপ্রপাতটি বিভিন্ন সিনেমার শুটিং স্পট হিসেবেও পরিচিত। কোচি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরত্বে এটি অবস্থিত এবং গাড়ি ভাড়া করে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়।
চিত্রকূট জলপ্রপাত, ছত্তিশগড়
ছত্তিশগড়ের বাস্তার জেলায় ইন্দ্রাবতী নদীর উপর অবস্থিত এই জলপ্রপাতটিও ‘ভারতের নায়াগ্রা’ নামে পরিচিত। ঘোড়ার খুরের মতো আকৃতির এই জলপ্রপাতটি বর্ষাকালে প্রায় ৩০০ মিটার চওড়া হয়ে যায়, যা ভারতের প্রশস্ততম জলপ্রপাত হিসেবে গণ্য হয়। বর্ষার জলে পরিপূর্ণ ইন্দ্রাবতী নদী যখন প্রায় ৯৫ ফুট উচ্চতা থেকে নীচে আছড়ে পড়ে, তখন তার গর্জন এবং জলের ছিটে এক রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি করে। অনেকে এখানে সূর্যোদয় এবং রামধনুর দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় জমান। জগদলপুর শহর থেকে গাড়িতে এখানে পৌঁছানো যায়।
নোহকালিকাই জলপ্রপাত, মেঘালয়
মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জির কাছে অবস্থিত নোহকালিকাই ভারতের উচ্চতম প্লঞ্জ ওয়াটারফল, অর্থাৎ যেখানে জলধারা বাধাহীনভাবে সরাসরি নীচে পড়ে। প্রায় ৩৪০ মিটার (১১১৫ ফুট) উচ্চতা থেকে পড়া এই জলপ্রপাতটির জল নীচে একটি সুন্দর নীল হ্রদ তৈরি করেছে। বর্ষার সময়ে মেঘ এবং কুয়াশার মধ্যে দিয়ে এই জলপ্রপাতের দৃশ্য এক কথায় অনবদ্য। এই জলপ্রপাতের নামের সঙ্গে এক স্থানীয় খাসি মায়ের করুণ কাহিনী জড়িয়ে আছে। শিলং থেকে সড়কপথে প্রায় দুই ঘণ্টার যাত্রায় এখানে পৌঁছানো যায়।












