এক মহাকাব্যিক স্বপ্নের সূচনা
'দঙ্গল' ও 'ছিছোরে'-র মতো সফল ছবির পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির বহু বছরের স্বপ্নের প্রকল্প হলো 'রামায়ণ'। এটি শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, বরং একটি দুই পর্বের মহাকাব্যিক সিরিজ, যার প্রথম পর্ব ২০২৬ সালের দীপাবলিতে
মুক্তি পাওয়ার কথা। প্রযোজক নমিত মালহোত্রা এবং অভিনেতা যশের প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবির মোট বাজেট প্রায় ৪০০০ কোটি রুপি, যা একে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পে পরিণত করেছে। নির্মাতাদের লক্ষ্য, এই ছবিটিকে শুধুমাত্র ভারতীয় দর্শকদের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দেওয়া। এর জন্য হলিউডের প্রযুক্তি এবং কলাকুশলীদেরও যুক্ত করা হয়েছে।
সিনেমাটিক ইউনিভার্স আসলে কী?
সহজ ভাষায়, সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স হলো এমন একটি চলচ্চিত্র জগত, যেখানে একাধিক সিনেমা ও চরিত্র একটি বড় গল্পের অংশ হিসেবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স (MCU), যেখানে আয়রন ম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকা বা থরের মতো চরিত্রদের নিজস্ব ছবির পাশাপাশি 'অ্যাভেঞ্জার্স'-এর মতো ছবিতেও একসঙ্গে দেখা যায়। এই ধরনের ইউনিভার্স তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো দর্শকদের একটি বড় এবং ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার অংশ করে তোলা, যা শুধুমাত্র একটি ছবিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। 'রামায়ণ'-এর নির্মাতারাও মহাকাব্যের বিভিন্ন চরিত্র এবং শাখা-কাহিনীকে ভিত্তি করে এমনই একটি বিস্তৃত জগত তৈরির পরিকল্পনা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তারার আলোয় উজ্জ্বল চরিত্ররা
এই বিশাল প্রকল্পের অন্যতম বড় আকর্ষণ এর তারকা সমাহার। রামের চরিত্রে দেখা যাবে রণবীর কাপুরকে, যিনি এই চরিত্রের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখেননি। সীতার ভূমিকায় থাকছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী সাই পল্লবী, যাঁর স্নিগ্ধ উপস্থিতি চরিত্রটির প্রতি সুবিচার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হলো রাবণের চরিত্রে 'কেজিএফ' খ্যাত সুপারস্টার যশের অভিনয়, যিনি এই ছবির সহ-প্রযোজকও। এছাড়াও, হনুমানের চরিত্রে সানি দেওল, লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় লারা দত্ত, অরুণ গোভিলের মতো অভিনেতারা রয়েছেন, যা ছবিটিকে একটি প্যান-ইন্ডিয়ান মাত্রা দিয়েছে।
প্রযুক্তি ও সঙ্গীতের বিশ্বমানের মেলবন্ধন
শুধুমাত্র বাজেট বা তারকাই নয়, 'রামায়ণ' প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বিশ্বমানের হতে চলেছে। ছবির ভিজ্যুয়াল এফেক্টসের (VFX) দায়িত্বে রয়েছে অস্কারজয়ী সংস্থা ডিএনইজি, যারা 'ইন্টারস্টেলার' এবং 'ডিউন'-এর মতো ছবিতে কাজ করেছে। পুরো ছবিটি আইম্যাক্স ক্যামেরায় শ্যুট করা হচ্ছে, যা দর্শকদের এক অসাধারণ সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা দেবে। সঙ্গীতের দায়িত্বে রয়েছেন দুই অস্কারজয়ী কিংবদন্তি—এ. আর. রহমান এবং হান্স জিমার। তাঁদের যুগলবন্দি ছবির আবেগ ও রাজকীয় আবহকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, এই ছবিটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় ডাবিং ছাড়াই স্থানীয় ভাষায় মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
চ্যালেঞ্জ এবং বিতর্ক
তবে এত বড় মাপের প্রকল্পের পথচলা মোটেও সহজ নয়। এর আগে 'আদিপুরুষ'-এর মতো ছবি রামায়ণকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দেখাতে গিয়ে সমালোচিত হয়েছিল এর দুর্বল ভিএফএক্স, সংলাপ এবং চরিত্রের উপস্থাপনার জন্য। তাই নীতেশ তিওয়ারির 'রামায়ণ'-এর ওপর প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি। একটি ধর্মীয় মহাকাব্যকে পর্দায় আনা সবসময়ই সংবেদনশীল বিষয়। কাহিনীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সিনেম্যাটিক স্বাধীনতা নেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নির্মাতারা জানিয়েছেন, তাঁরা মহাকাব্যের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতা নিয়েই এই কাজটি করছেন। দর্শকদের অনুভূতিকে সম্মান দিয়েই তাঁরা একটি प्रामाणिक অথচ আধুনিক উপস্থাপনার চেষ্টা করছেন।














