১. খাদ্যাভ্যাসে আনুন পরিবর্তন
বর্ষাকালে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। এই সময়ে আমাদের হজম ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়, তাই ভাজাভুজি ও রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এই ধরনের খাবারে জলবাহিত রোগ যেমন টাইফয়েড,
কলেরা ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এর পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় রাখুন হালকা ও সহজপাচ্য খাবার। প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল, যেমন - লেবু, আমলকী, পেয়ারা যোগ করুন। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সাধারণ সর্দি-জ্বরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, আপনার খাদ্যতালিকায় রাখুন আদা, রসুন, হলুদ ও বিভিন্ন موسমি সবজি। হলুদে থাকা কারকিউমিন এবং রসুনে থাকা অ্যালিসিন ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অত্যন্ত কার্যকর। স্যুপ ও গরম দুধের মতো উষ্ণ পানীয় শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে।
২. পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন
বর্ষাকালে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় আমাদের জল পানের প্রবণতা কমে যায়। কিন্তু শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং ভেতর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। তবে এই সময়ে জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বেশি থাকায় সব সময় বিশুদ্ধ জল পান করা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি জল ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে পান করেন। বাইরে বেরোলে বাড়ি থেকে জলের বোতল নিয়ে যাওয়াই শ্রেয়। এর পাশাপাশি, আপনি বিভিন্ন ভেষজ চা পান করতে পারেন। আদা, তুলসী, গোলমরিচ দিয়ে বানানো চা শুধু শরীরকে গরমই রাখে না, গলা ব্যথা ও কাশির উপশমেও সাহায্য করে। এই ধরনের পানীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক।
৩. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
বর্ষাকালে জীবাণুর সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত-পা ধুয়ে নিন। খাওয়ার আগেও হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। এই ছোট অভ্যাসটি আপনাকে অনেক সংক্রামক রোগ থেকে দূরে রাখতে পারে। ভেজা পোশাকে বেশিক্ষণ থাকবেন না, বিশেষ করে যদি বৃষ্টিতে ভিজে যান। ভেজা পোশাকে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বাড়ি ফিরে যত দ্রুত সম্ভব ভেজা কাপড় পাল্টে হালকা গরম জলে স্নান করে নিন। এতে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হবে এবং জীবাণুও পরিষ্কার হয়ে যাবে। আপনার বাড়ি এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখুন, কোথাও জল জমতে দেবেন না, কারণ জমে থাকা জলে মশা বংশবৃদ্ধি করে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৪. বৃষ্টিতে ভেজা এড়িয়ে চলুন
বর্ষার অন্যতম আকর্ষণ হলো বৃষ্টি, কিন্তু এই বৃষ্টিতে ভেজার কারণেই বেশিরভাগ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। হঠাৎ করে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ভাইরাস সহজেই আক্রমণ করতে পারে। তাই চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব বৃষ্টি এড়িয়ে চলার। বাইরে বেরোনোর সময় সঙ্গে অবশ্যই ছাতা বা রেইনকোট রাখুন। যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিজেও যান, তাহলে দ্রুত বাড়ি ফিরে শুকনো কাপড় পরে নিন। ভেজা চুল ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে নিন, কারণ বেশিক্ষণ মাথা ভেজা থাকলে ঠান্ডা লেগে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। এই মৌসুমে এমন পোশাক ও জুতো পরুন যা সহজে শুকিয়ে যায়। পায়ের যত্ন নেওয়াও খুব জরুরি, কারণ নোংরা জল থেকে পায়ে সংক্রমণ হতে পারে।
৫. নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম
শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও শক্তিশালী হয়। বৃষ্টির কারণে বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করা সম্ভব না হলে বাড়িতেই হালকা কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। যোগব্যায়াম, ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা সামান্য 스트েচিং শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে। ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমও সমানভাবে জরুরি। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলে। মানসিক চাপ কমানোও সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়, কারণ অতিরিক্ত চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।












