১. চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদু
বলা হয়, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন চক্রবৃদ্ধি সুদকে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য বলেছিলেন। [7] এর কারণ হলো, এখানে শুধু আপনার আসলের উপর নয়, বরং অর্জিত সুদের উপরেও সুদ জমা হতে থাকে। [2, 10] যত কম বয়স থেকে আপনি বিনিয়োগ
শুরু করবেন, আপনার টাকা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে ওঠার জন্য তত বেশি সময় পাবে। ধরা যাক, ২৫ বছর বয়স থেকে কেউ মাসে ৫,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ শুরু করলেন। ৬০ বছর বয়সে অবসরের সময়, ১০% হারে রিটার্ন পেলে তার সঞ্চয় কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু একই বিনিয়োগ ৩০ বছর বয়সে শুরু করলে, জমাকৃত অর্থের পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে। [13] সময়ের এই পার্থক্যই আপনার অবসরের তহবিলকে বিশাল করে তুলতে পারে।
২. মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা কবচ
আজকের ১০০ টাকার মূল্য আর দশ বছর পরের ১০০ টাকার মূল্য এক থাকবে না। মুদ্রাস্ফীতির কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমতে থাকে। [12, 17] বর্তমানে যে জীবনযাত্রা চালাতে আপনার মাসিক ৫০,০০০ টাকা খরচ হয়, ৬% মুদ্রাস্ফীতি ধরলেও ২০ বছর পর সেই একই জীবনযাত্রার জন্য প্রায় ১.৬ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হবে। [20] তাই অবসরের জন্য এমন একটি তহবিল তৈরি করা দরকার, যা কেবল আপনার খরচই মেটাবে না, বরং ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কাও সামলাতে পারবে। আগে থেকে পরিকল্পনা না করলে, অবসরের সময়ে আপনার সঞ্চয় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম মনে হতে পারে। [5]
৩. আর্থিক স্বাধীনতা এবং স্বপ্নের জীবন
অবসর মানে শুধু কাজ থেকে বিরতি নয়, এটি জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করার সুযোগ। এই সময়ে আপনি হয়তো দেশ-বিদেশ ঘুরতে চান, নতুন কোনো শখ পূরণ করতে চান বা পরিবারের সঙ্গে নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে চান। এই সবকিছুর জন্যই প্রয়োজন আর্থিক স্বাধীনতা। [4] কর্মজীবনের শুরু থেকে করা منظم সঞ্চয় এবং সঠিক বিনিয়োগ আপনাকে সেই আর্থিক সক্ষমতা এনে দেয়। এর ফলে অবসরের পর আপনাকে সন্তানের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হতে হয় না এবং আপনি নিজের শর্তে জীবনযাপন করতে পারেন। [16]
৪. অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্যখাতে খরচের প্রস্তুতি
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা ও চিকিৎসার খরচ বাড়াটা স্বাভাবিক। ভারতে চিকিৎসার খরচ বছরে প্রায় ১০-১২% হারে বাড়ছে। [20] অবসরের সময়ে যখন নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যায়, তখন হঠাৎ করে বড় কোনো চিকিৎসার খরচ enorme চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একটি সুপরিকল্পিত অবসরকালীন তহবিল এবং উপযুক্ত স্বাস্থ্যবীমা আপনাকে এই ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষিত রাখে। [5] জরুরি অবস্থার জন্য একটি আলাদা তহবিল গঠন করা অবসর পরিকল্পনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। [1]
৫. ঋণমুক্ত অবসরের আনন্দ
কর্মজীবনে বাড়ি বা গাড়ির জন্য নেওয়া ঋণ অবসরের সময়েও চলতে থাকলে তা মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অবসর পরিকল্পনার একটি লক্ষ্য হওয়া উচিত অবসরের আগেই সমস্ত বড় ঋণ পরিশোধ করে ফেলা। [1] আপনি যদি আগে থেকে পরিকল্পনা করেন, তাহলে আপনার সঞ্চয় ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্যও একটি সঠিক কৌশল তৈরি করতে পারবেন। ঋণমুক্ত অবসর জীবন আপনাকে সত্যিকারের মানসিক শান্তি এবং স্বাধীনতা দেবে।
৬. বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘ সময় পাওয়া
বিনিয়োগের জগতে সময় একটি বড় শক্তি। আপনি যত আগে বিনিয়োগ শুরু করবেন, বাজারের ওঠানামা সামলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে। [13] অল্প বয়স থেকে শুরু করলে আপনি इक्विटी মিউচুয়াল ফান্ডের মতো ক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারেন, যেখানে দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরির সম্ভাবনা বেশি থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি কমানোর জন্য ধীরে ধীরে আপনার বিনিয়োগকে তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্পে, যেমন ডেট ফান্ড বা সরকারি স্কিমে সরিয়ে আনা যায়। [4] এই কৌশলটি কার্যকর করার জন্য হাতে যথেষ্ট সময় থাকা প্রয়োজন।













