গেমসের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজন নিয়ে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য অতিরিক্ত খরচের কারণে আয়োজক হওয়া থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর অন্য কোনো শহর এগিয়ে না আসায়
একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই আসর হয়তো বাতিল বা স্থগিত হয়ে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো কম পরিসরে এই গেমস আয়োজন করতে রাজি হয়েছে, যা ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা। তবে বার্মিংহাম ২০২২-এর তুলনায় এবারের আসরে খেলার সংখ্যা অনেক কম, যা ভারতের পদক জয়ের হিসাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
৩০টি পদক, নাকি ৩০টি সোনা?
শিরোনামে ৩০টি পদকের কথা বলা হলেও, ভারতের আসল লক্ষ্য সম্ভবত ৩০টি সোনার পদক। কারণ, ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ভারত ২২টি সোনা-সহ মোট ৬১টি পদক জিতেছিল। সেই তুলনায় মাত্র ৩০টি পদকের লক্ষ্যমাত্রা একেবারেই বাস্তবসম্মত নয়। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের লক্ষ্য হলো ৩০টি সোনার গণ্ডি পেরিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করা। এই লক্ষ্য নিঃসন্দেহে কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।
ভারতের শক্তিশালী ক্ষেত্রগুলি
ঐতিহ্যগতভাবে কুস্তি, বক্সিং, ভারোত্তোলন এবং ব্যাডমিন্টনে ভারত শক্তিশালী। ২০২২ সালের গেমসেও এই চারটি খেলা থেকে ভারত ২১টি সোনা জিতেছিল। এবারও নীরজ চোপড়া, মীরাবাই চানু, লাভলিনা বরগোহাঁই, পিভি সিন্ধু, এবং কুস্তিগীরদের উপর দেশের প্রধান ভরসা থাকবে। বক্সিং ফেডারেশন একাই কমপক্ষে দশটি পদকের আশা করছে। এই তারকা খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ৩০টি সোনার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
শুটিং না থাকাটা বড় ধাক্কা
ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হলো, গ্লাসগো গেমসের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে শুটিং এবং আর্চারির মতো খেলাগুলি অন্তর্ভুক্ত না থাকা। ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ভারত শুটিং থেকে ৭টি সোনা-সহ মোট ১৬টি পদক জিতেছিল। ২০২২ সালে বার্মিংহামে শুটিং না থাকায় ভারতের পদক সংখ্যা অনেকটাই কমে যায়। ২০২৬-এও শুটিংয়ের অনুপস্থিতি ৩০টি সোনার লক্ষ্যকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। শুটিং থাকলে এই লক্ষ্য অনেক বেশি বাস্তবসম্মত মনে হতো।
নতুন তারকা এবং অন্যান্য খেলার ভূমিকা
তারকাদের পাশাপাশি ভারতের নজর থাকবে কিছু নতুন প্রতিভার দিকেও। হাই জাম্পে সর্বেশ কুশারে, বক্সিংয়ে প্রীতি পাওয়ার এবং ভারোত্তোলনে জ্ঞানেশ্বরী যাদবের মতো তরুণ ক্রীড়াবিদরা পদক জিতে চমক দিতে পারেন। এছাড়াও, অ্যাথলেটিক্সে নীরজ চোপড়ার পাশাপাশি লং জাম্পার মুরলি শ্রীশঙ্কর এবং স্প্রিন্টার অনিমেষ কুজুরের মতো খেলোয়াড়দের দিকেও নজর থাকবে। জিমন্যাস্টিক্সে বাংলার প্রণতি নায়েকের থেকেও পদকের আশা করা হচ্ছে। এই নতুন ক্ষেত্রগুলি থেকে অপ্রত্যাশিত পদক এলেই ভারতের পক্ষে সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।













