হোয়াটসঅ্যাপে কোন কোন AI ফিচার এসেছে?
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে সম্প্রতি বেশ কিছু AI-ভিত্তিক ফিচার যুক্ত হয়েছে। মেটা এআই (Meta AI) নামক এই চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে, ছবি তৈরি করতে বা বিভিন্ন
লেখায় সাহায্য করতে পারে। ব্যবহারকারীরা চ্যাটের মধ্যেই '@Meta AI' লিখে এই সহকারীকে ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে তথ্য খোঁজা, লেখা তৈরি বা অনুবাদ করার মতো কাজগুলো চ্যাট না ছেড়েই করা সম্ভব। এছাড়াও, 'রাইটিং হেল্প' নামের একটি ফিচার বার্তার ব্যাকরণগত ভুল সংশোধন করতে এবং লেখাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সাহায্য করে। কিছু ক্ষেত্রে, এআই ব্যবহার করে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন বা অপ্রয়োজনীয় বস্তু মুছে ফেলার সুবিধাও পরীক্ষাধীন রয়েছে।
তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে মেটা কী বলছে?
গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের উদ্বেগের জবাবে মেটা এবং হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বস্ত করেছে। তাদের প্রধান যুক্তি হলো, হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত বার্তাগুলো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড। এর মানে হলো, প্রেরক এবং প্রাপক ছাড়া আর কেউ, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বা মেটাও সেই বার্তা পড়তে পারে না। মেটার বক্তব্য অনুযায়ী, এআই শুধুমাত্র সেই বার্তাগুলোই পড়তে পারে, যা ব্যবহারকারীরা সরাসরি এআই-কে পাঠায় বা কোনো গ্রুপে '@Meta AI' উল্লেখ করে লেখে। অর্থাৎ, আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট এআই-এর নাগালের বাইরে। এছাড়াও, মেটা 'প্রাইভেট প্রসেসিং' নামক একটি প্রযুক্তি চালু করেছে, যা ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই ডেটা প্রসেস করে, ফলে তথ্য বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। সম্প্রতি চালু হওয়া 'ইনকগনিটো চ্যাট' মোড আরও এক ধাপ এগিয়ে, যেখানে এআই-এর সঙ্গে আপনার কথোপকথন সেভ হয় না এবং মেটাও তা দেখতে পায় না বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ কী?
মেটার আশ্বাস সত্ত্বেও, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যখনই আপনি এআই-এর সঙ্গে কোনো তথ্য শেয়ার করছেন, সেটি মেটার সার্ভারে চলে যাচ্ছে। এই ডেটা মেটার এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দিতে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও মেটা দাবি করে যে এই ডেটা বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয় না, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যবহারকারীর পছন্দ, অপছন্দ এবং আগ্রহ সম্পর্কে প্রচুর তথ্য কোম্পানির হাতে চলে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, যদি কোনো গ্রুপ চ্যাটে একজন সদস্যও এআই ফিচার ব্যবহার করেন, তাহলে সেই চ্যাটের কথোপকথনের অংশবিশেষ এআই দ্বারা প্রসেস হতে পারে। ব্যবহারকারী নিজের সেটিংসে এআই বন্ধ রাখলেও, গ্রুপের অন্য সদস্যের কারণে তার তথ্যও অসুরক্ষিত হতে পারে। এছাড়া, 'শেয়ার' বা 'পাবলিশ' বাটনের অস্পষ্টতার কারণে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই তাদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতা পাবলিক ফিডে শেয়ার করে ফেলছেন, এমন অভিযোগও উঠেছে।
নিরাপদ থাকতে কী করবেন: বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
প্রযুক্তি যেমন সুবিধা নিয়ে আসে, তেমনই কিছু ঝুঁকিও তৈরি করে। হোয়াটসঅ্যাপে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রথমত, মেটা এআই-এর সঙ্গে কোনো সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন - আর্থিক বিবরণ, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বা পাসওয়ার্ড শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। দ্বিতীয়ত, আপনার হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত পর্যালোচনা করুন। 'অ্যাডভান্সড চ্যাট প্রাইভেসি' ফিচারটি চালু রাখলে নির্দিষ্ট চ্যাটে এআই ব্যবহার ব্লক করা যায় এবং মিডিয়া ফাইল অটো-ডাউনলোড হওয়া বন্ধ থাকে। তৃতীয়ত, কোনো গ্রুপে ব্যক্তিগত বা গোপন আলোচনা করার আগে জেনে নিন সেই গ্রুপের সদস্যরা এআই ফিচার ব্যবহার করছেন কিনা। চতুর্থত, মেটার প্রাইভেসি পলিসি সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং ডেটা শেয়ারিং সীমিত করার জন্য উপলভ্য অপশনগুলো ব্যবহার করুন। GDPR-এর অধীনে থাকা ব্যবহারকারীরা 'Right to Object' প্রয়োগ করে এআই প্রশিক্ষণের জন্য ডেটা ব্যবহার বন্ধ করার আবেদন করতে পারেন। সবশেষে, যেকোনো নতুন ফিচার ব্যবহারের আগে তার কার্যকারিতা এবং গোপনীয়তার শর্তাবলী ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার অভ্যাস করুন।











