জীবনবিমা কেন জরুরি?
জীবনবিমা কেবল একটি কর বাঁচানোর উপায় নয়, এটি আপনার পরিবারের জন্য একটি আর্থিক সুরক্ষা কবচ। আমাদের জীবন নানা অনিশ্চয়তায় ভরা। যেকোনো অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তির অনুপস্থিতি একটি পরিবারকে
আর্থিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জীবনবিমা আপনার প্রিয়জনদের পাশে দাঁড়ায়। এটি আপনার অবর্তমানে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের দৈনন্দিন খরচ বা কোনো ঋণের বোঝা মেটাতে সাহায্য করে। তাই একে কেবল খরচ হিসেবে না দেখে, ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা উচিত।
২০-এর কোঠায়: কম প্রিমিয়ামে বেশি সুবিধা
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনবিমা শুরু করার সেরা সময় হলো যখন আপনার বয়স কম এবং আপনি সবেমাত্র কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন। ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে বিমা করলে প্রিমিয়ামের পরিমাণ অনেক কম থাকে। কারণ এই বয়সে শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি কম থাকে বলে বিমা কোম্পানিগুলো আপনাকে কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে। উদাহরণস্বরূপ, ২১ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি ৩০ বছরের জন্য ১ কোটি টাকার টার্ম প্ল্যান কিনতে প্রতি মাসে যে প্রিমিয়াম দেবেন, সেই একই প্ল্যানের জন্য ৩১ বছর বয়সে প্রায় দ্বিগুণ এবং ৪১ বছর বয়সে প্রায় চারগুণ বেশি প্রিমিয়াম দিতে হতে পারে। তাই অল্প বয়সে বিমা শুরু করলে দীর্ঘমেয়াদে অনেক টাকা সাশ্রয় হয় এবং লম্বা সময়ের জন্য আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
৩০-এর কোঠায়: দায়িত্ব বাড়লে সঠিক সিদ্ধান্ত
যাঁরা ২০-এর কোঠায় জীবনবিমা শুরু করতে পারেননি, তাঁদের জন্য ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে বেশিরভাগ মানুষের উপর পরিবারের দায়িত্ব বাড়ে। বিয়ে, সন্তান, বাড়ির লোন বা গাড়ির ঋণের মতো নানা আর্থিক দায়বদ্ধতা এই সময়েই তৈরি হয়। আপনার অনুপস্থিতিতে যাতে আপনার পরিবার এই দায়িত্বগুলো সহজে সামলাতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য জীবনবিমা থাকা আবশ্যক। এই বয়সে প্রিমিয়াম ২০-এর দশকের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও, তখনও তা সাধ্যের মধ্যেই থাকে। আপনার ক্রমবর্ধমান আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি উপযুক্ত অঙ্কের বিমা পলিসি বেছে নেওয়া এই পর্যায়ে অত্যন্ত জরুরি।
৪০ ও তার বেশি বয়সে: এখনও কি সময় আছে?
চল্লিশ বা পঞ্চাশের কোঠায় জীবনবিমা করা অবশ্যই সম্ভব, তবে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এই বয়সে প্রিমিয়ামের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকিও বাড়ে, যার ফলে বিমা কোম্পানি পলিসি দেওয়ার আগে একাধিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থাকলে পলিসি পেতে অসুবিধা হতে পারে বা প্রিমিয়াম আরও বাড়তে পারে। তবে, যাঁদের উপর নির্ভরশীলদের সংখ্যা বেশি বা বড় কোনো ঋণ রয়েছে, তাঁদের জন্য এই বয়সেও একটি জীবনবিমা পলিসি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিছু কোম্পানি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ পলিসি অফার করে, যদিও সেগুলোর শর্তাবলী ভিন্ন হতে পারে।
বয়স ছাড়াও আর কী কী ভাবা উচিত?
জীবনবিমা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বয়সই একমাত্র মাপকাঠি নয়। আপনার বার্ষিক আয়, আপনার উপর নির্ভরশীল সদস্যের সংখ্যা, আপনার মোট ঋণের পরিমাণ এবং আপনার জীবনযাত্রার মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আপনার লাইফ কভার বা বিমাকৃত রাশির পরিমাণ আপনার বার্ষিক আয়ের কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ গুণ হওয়া উচিত, যাতে আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার পরিবার তাদের জীবনযাত্রা বজায় রাখতে পারে এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে পারে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পলিসি (যেমন টার্ম ইন্স্যুরেন্স বা এন্ডোমেন্ট প্ল্যান) বেছে নেওয়াও জরুরি।












