রদ্রি: মাঝমাঠের জেনারেল ও টুর্নামেন্টের সেরা
স্পেনের এই বিশ্বজয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক কে, এই প্রশ্নের উত্তরে সবার আগে আসবে রদ্রির নাম। মাঝমাঠের এই জেনারেল শুধু দলের ইঞ্জিন হিসেবেই কাজ করেননি, রক্ষণে দিয়েছেন নির্ভরতা, আবার আক্রমণেও নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে
থেকে। টুর্নামেন্ট জুড়ে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে এনে দিয়েছে গোল্ডেন বলের খেতাব। চোট সারিয়ে ফিরে এসে যেভাবে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। সেমিফাইনালে ফ্রান্স এবং ফাইনালে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে তার অতিমানবীয় পারফরম্যান্স স্পেনের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল। তার ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা এবং冷静 নেতৃত্বই ছিল স্পেনের মূল শক্তি।
লামিনে ইয়ামাল: রেকর্ড গড়া বিস্ময় বালক
মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা এবং দলকে চ্যাম্পিয়ন করা—লামিনে ইয়ামাল যেন এক স্বপ্নের সওয়ারি। পুরো টুর্নামেন্টে তার গতি, ড্রিবলিং এবং নির্ভীক মানসিকতা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে কাঁপন ধরিয়েছে। ইউরো এবং বিশ্বকাপ, দুটো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে টিনএজার হিসেবে খেলার বিরল রেকর্ড গড়েছেন তিনি। যদিও গোল সংখ্যায় তিনি হয়তো শীর্ষে ছিলেন না, কিন্তু ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার উপস্থিতি এবং প্রতিপক্ষের মনোযোগ নিজের দিকে ধরে রাখার ক্ষমতা অন্য খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ইয়ামাল স্পেনের নতুন প্রজন্মের প্রতীক, যার কাঁধে ভর করে未来的 স্বপ্ন দেখছে স্পেন।
ফেরান তোরেস: ফাইনালের গোল্ডেন বয়
বিশ্বকাপের মঞ্চে নায়ক হতে একটা মুহূর্তই যথেষ্ট। ফেরান তোরেসের জন্য সেই মুহূর্তটি এসেছিল ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে। পুরো টুর্নামেন্টে গোলখরায় ভুগতে থাকা তোরেস বদলি হিসেবে নেমে ১০৬ মিনিটে যে গোলটি করেছেন, তা স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পর তিনিই স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে জয়সূচক গোলদাতা। সমালোচকদের সব প্রশ্নের উত্তর তিনি দিয়েছেন সবচেয়ে বড় মঞ্চে, প্রমাণ করেছেন বড় ম্যাচের খেলোয়াড় তিনি।
নিকো উইলিয়ামস: উইংয়ের ঝড়
গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়াই ছিল নিকো উইলিয়ামসের প্রধান কাজ, এবং তিনি তা করেছেন নিপুণভাবে। ফাইনাল ম্যাচে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলের পাসটি এসেছিল তার পা থেকেই। পুরো টুর্নামেন্টে তার এবং ইয়ামালের জুটি স্পেনকে দিয়েছে এক অপ্রতিরোধ্য আক্রমণভাগ। ৯৬ মিনিটে তার একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল না হলে হয়তো ম্যাচ অতিরিক্ত সময়েই গড়াত না। তার অবদান শুধু গোলে বা অ্যাসিস্টে সীমাবদ্ধ ছিল না, তার নিরন্তর ছুটে চলা এবং প্রতিপক্ষকে ব্যস্ত রাখা দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
পাউ কুবার্সি: রক্ষণের নতুন প্রাচীর
মাত্র ১৯ বছর বয়সে রক্ষণে এমন পরিপক্কতা দেখানো এক কথায় অবিশ্বাস্য। বার্সেলোনার লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা এই তরুণ সেন্টার-ব্যাক পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের রক্ষণকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার ঠান্ডা মাথার ডিফেন্ডিং এবং খেলা পড়ার ক্ষমতা স্পেনকে রেকর্ড সাতটি ক্লিনশিট রাখতে সাহায্য করেছে। এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতে নিয়েছেন বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ইয়ামালের মতো কুবার্সিও প্রমাণ করেছেন, স্পেনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হাতেই রয়েছে।
উনাই সিমন: গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী
যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট জিততে হলে একটি বিশ্বমানের গোলরক্ষকের প্রয়োজন। উনাই সিমন ছিলেন ঠিক তাই। টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে এবং টানা ৬৪৯ মিনিট নিজের জাল অক্ষত রেখে তিনি বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তার হাতে উঠেছে গোল্ডেন গ্লাভস পুরস্কার। ফাইনালেও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো। তার বিশ্বস্ত হাতজোড়াই স্পেনকে ১৬ বছর পর বিশ্বসেরার মুকুট এনে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।








