মেসির ঠিকানা: পারিবারিক ও রুচিশীল
লিওনেল মেসি বরাবরই ব্যক্তিগত জীবনে প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন। তার বাড়ির নকশা ও সুযোগ-সুবিধা দেখলেও সেটাই মনে হয়। বার্সেলোনার কাছে ক্যাস্টেলডেফেলসে মেসির বাড়িটি প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের,
যেখানে ভূমধ্যসাগরের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বাড়িটিতে একটি ছোট ফুটবল মাঠ, সুইমিং পুল, জিম এবং বাচ্চাদের খেলার জায়গা রয়েছে, যা তার পরিবারকেন্দ্রিক মানসিকতার পরিচয় দেয়। সম্প্রতি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর, মেসি ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলে প্রায় ১০.৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি ওয়াটারফ্রন্ট ম্যানসন কিনেছেন। ১০,৫০০ বর্গফুটের এই বাড়িতে দশটি বেডরুম, একটি স্পা, দুটি ডক এবং একটি বিশাল সুইমিং পুল রয়েছে। মেসির বাড়িগুলো চাকচিক্যের চেয়ে আরাম এবং ব্যক্তিগত পরিসরকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
রোনাল্ডোর প্রাসাদ: ব্র্যান্ড এবং জৌলুস
অন্যদিকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর জীবনযাত্রা তার ‘সিআরসেভেন’ ব্র্যান্ডের মতোই জমকালো এবং বিলাসবহুল। মাদ্রিদ থেকে শুরু করে তুরিন এবং এখন সৌদি আরব, তার প্রতিটি বাড়িই এক একটি প্রাসাদ। তার মাদ্রিদের বাড়িতে একটি বিশাল জিম, ট্রফি রুম এবং একটি ফুটবল পিচ রয়েছে। অবসরের পর থাকার জন্য তিনি পর্তুগালে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল ম্যানসন তৈরি করেছেন, যা পর্তুগালের অন্যতম দামি বাড়ি হিসেবে পরিচিত। এই বাড়িতে ব্যক্তিগত সিনেমা হল থেকে শুরু করে তার বিশাল গাড়ির সংগ্রহের জন্য বিশেষ গ্যারাজের ব্যবস্থাও রয়েছে। রোনাল্ডোর বাড়িগুলো যেন তার সাফল্য এবং রাজকীয় জীবনযাত্রার এক একটি প্রদর্শনী। তার মা ও পরিবারের জন্য জন্মস্থান মাদেইরাতেও একাধিক বাড়ি ও হোটেল রয়েছে। তার জীবনযাত্রার প্রতিটি অংশেই বিলাসিতা এবং জাঁকজমকের ছোঁয়া স্পষ্ট।
গাড়ির লড়াই: গতির রাজত্ব কার হাতে?
বাড়িঘরের পর আসা যাক গাড়ির প্রসঙ্গে। এখানেও দুজনের রুচি ভিন্ন। মেসির গাড়ির সংগ্রহে ব্যবহারিক লাক্সারি এসইউভি, যেমন ক্যাডিলাক এসকালেড, অডি এবং রেঞ্জ রোভারের প্রাধান্য দেখা যায়, যা পরিবারের সঙ্গে ঘোরার জন্য আদর্শ। তবে তার গ্যারাজে ফেরারির মতো সুপারকারও রয়েছে। অন্যদিকে, রোনাল্ডোর গাড়ির সংগ্রহ এক কথায় তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। তার গ্যারাজে রয়েছে বুগাটি শিরন, বুগাটি ভেরন এবং অতি দুর্লভ বুগাটি সেন্টোডিয়েসির মতো হাইপারকার, যার মধ্যে কেবল ১০টি ইউনিটই তৈরি হয়েছে। এছাড়াও তার সংগ্রহে একাধিক ফেরারি, ল্যাম্বরগিনি এবং রোলস রয়েস রয়েছে। গাড়ির প্রতি রোনাল্ডোর ভালোবাসা তার ব্যক্তিত্বের মতোই গতিময় এবং শক্তিশালী।
জীবনদর্শনের পার্থক্য
শেষ পর্যন্ত, মেসি এবং রোনাল্ডোর বিলাসবহুল জীবনযাত্রা তাদের নিজ নিজ ব্যক্তিত্ব এবং জীবনদর্শনের প্রতিফলন। মেসি যেখানে একজন পারিবারিক মানুষ, যিনি প্রচারের আড়ালে থাকতে ভালোবাসেন এবং তার সম্পদ পরিবারের আরাম ও সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করেন, সেখানে রোনাল্ডো তার সাফল্যকে উদযাপন করতে ভালোবাসেন। তার জীবনযাত্রা তার গ্লোবাল ব্র্যান্ড ‘সিআরসেভেন’-এর মতোই জাঁকজমকপূর্ণ। রোনালদোর মোট সম্পদের পরিমাণ যেখানে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, সেখানে মেসির সম্পদ প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। সম্পদের এই পার্থক্যও তাদের জীবনযাত্রার ভিন্নতাকে তুলে ধরে। রোনালদো যেমন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফুটবলার, তার জীবনযাপনেও সেই রাজকীয় ছাপ স্পষ্ট।












