ডেটা ব্রিচ: তথ্যের গোপন ভান্ডার ফাঁস
আমাদের মোবাইল নম্বর পাওয়ার জন্য স্ক্যামারদের সবচেয়ে বড় উৎস হলো ডেটা ব্রিচ। বিভিন্ন কোম্পানি, যেমন ই-কমার্স সাইট, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার ডেটাবেস হ্যাকারদের আক্রমণের শিকার
হয়। যখন এই ধরনের কোনো ডেটাবেস হ্যাক হয়, তখন লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, যার মধ্যে মোবাইল নম্বরও থাকে, ফাঁস হয়ে যায়। [7, 3] পরবর্তীকালে, এই চুরি করা ডেটা ডার্ক ওয়েবের মতো অবৈধ বাজারে বিক্রি হয়, যেখান থেকে স্ক্যামাররা খুব সহজেই আপনার নম্বর সংগ্রহ করে নেয়। [4, 5, 6] বড় বড় সংস্থা থেকে তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা এখন প্রায়ই ঘটছে, যা সাইবার অপরাধীদের কাজকে আরও সহজ করে দিচ্ছে। [7]
ফিশিং ও স্মিশিং: প্রতারণার টোপ
অনেক সময় আমরা নিজেরাই অজান্তে স্ক্যামারদের হাতে নিজেদের নম্বর তুলে দিই। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ফিশিং বা স্মিশিং। [10] স্ক্যামাররা ব্যাংক, কুরিয়ার সার্ভিস বা অন্য কোনো বিশ্বস্ত সংস্থার প্রতিনিধি সেজে আপনাকে ইমেল (ফিশিং) বা এসএমএস (স্মিশিং) পাঠায়। [9] এই মেসেজগুলোতে আকর্ষণীয় অফার, লটারি জেতার খবর বা কোনো অ্যাকাউন্টের সমস্যা সমাধানের কথা বলে একটি লিঙ্কে ক্লিক করতে বলা হয়। [2, 13] সেই লিঙ্কে ক্লিক করে ওয়েবসাইটে ঢুকলে আপনাকে নাম, ফোন নম্বর বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বলা হয়। যেই মুহূর্তে আপনি তথ্য জমা দেন, তা সরাসরি স্ক্যামারদের কাছে পৌঁছে যায়। [10]
সোশ্যাল মিডিয়া এবং পাবলিক ফোরাম
অনেকেই নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে, যেমন ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে, নিজেদের ফোন নম্বর পাবলিক করে রাখেন। এছাড়াও, বিভিন্ন অনলাইন ফোরাম, ক্লাসিফায়েড সাইট বা কমেন্ট সেকশনে আমরা অনেক সময় নিজেদের নম্বর শেয়ার করি। স্ক্যামাররা স্বয়ংক্রিয় টুল ব্যবহার করে এই সব পাবলিক প্ল্যাটফর্ম থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। তারা এই নম্বরগুলোকে একত্রিত করে একটি তালিকা তৈরি করে এবং পরবর্তীকালে প্রতারণার কাজে ব্যবহার করে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
অবিশ্বস্ত অ্যাপ এবং ম্যালওয়্যার
আমরা প্রায়শই বিভিন্ন প্রয়োজনে থার্ড-পার্টি বা অখ্যাত উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করি। এই ধরনের অনেক অ্যাপের মধ্যেই ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার লুকানো থাকতে পারে। [11] অ্যাপটি ইনস্টল করার সময় এটি আপনার ফোনের কন্ট্যাক্ট লিস্ট, মেসেজ এবং অন্যান্য তথ্যের অ্যাক্সেস চেয়ে নেয়। আপনি অনুমতি দিলেই, অ্যাপটি আপনার ফোন থেকে সমস্ত নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে হ্যাকারদের সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। [5] এর ফলে শুধু আপনার নম্বরই নয়, আপনার পরিচিতদের নম্বরও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
ডেটা ব্রোকার: নম্বর কেনাবেচার ব্যবসা
বিশ্বজুড়ে এমন অনেক সংস্থা আছে যারা বৈধ বা অবৈধভাবে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে এবং অন্যান্য সংস্থার কাছে বিক্রি করে। এদেরকে ডেটা ব্রোকার বলা হয়। যদিও টেলিকম সংস্থাগুলির ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করা নিষিদ্ধ, অনেক বিপণন সংস্থা বা অসাধু চক্র বিভিন্ন উৎস থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে একটি বড় ডেটাবেস তৈরি করে। [17, 22] পরবর্তীকালে এই ডেটাবেস স্ক্যামার বা প্রতারকদের কাছে বিক্রি করা হয়, যারা এই নম্বরগুলো ব্যবহার করে তাদের প্রতারণার জাল বিস্তার করে।
কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?
এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমত, যেকোনো ওয়েবসাইটে আপনার ফোন নম্বর দেওয়ার আগে তার বিশ্বস্ততা যাচাই করুন। [2] দ্বিতীয়ত, অচেনা উৎস থেকে আসা ইমেল বা এসএমএসের লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। [9] তৃতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফোন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য পাবলিক করে রাখবেন না। কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে তার পারমিশন বা অনুমতিগুলো ভালো করে পড়ে নিন। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা ফোন করে OTP চাইলে তা কখনোই শেয়ার করবেন না। [8, 16, 19] মনে রাখবেন, কোনো ব্যাংক বা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কখনোই আপনার কাছে ফোন করে ওটিপি জানতে চাইবে না। সাইবার জালিয়াতির শিকার হলে অবিলম্বে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে (1930) অভিযোগ জানান। [15]











