১০. জিদানের সেই বিদায় (২০০৬)
২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ছিল ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। ইতালির বিপক্ষে ম্যাচে একটি গোল করে দলকে এগিয়েও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ইতালীয় ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জির
সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর তাকে মাথা দিয়ে ঢুঁ মেরে বসেন জিদান। [8, 12, 18, 21, 24] সঙ্গে সঙ্গে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে, যা তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের এক দুঃখজনক সমাপ্তি রচনা করে। [8] পেনাল্টি শুটআউটে ফ্রান্স হেরে গেলে শিরোপা জেতে ইতালি। [18]
৯. রবার্তো বাজ্জিওর পেনাল্টি মিস (১৯৯৪)
১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিল ও ইতালি মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। [3, 11] ইতালির শেষ শটটি নিতে আসেন তাদের টুর্নামেন্টের নায়ক রবার্তো বাজ্জিও। কিন্তু তার শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়, আর সঙ্গে সঙ্গেই চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় ব্রাজিল। [6, 9] মাথায় হাত দিয়ে বাজ্জিওর সেই দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য বিশ্বকাপের অন্যতম হৃদয়বিদারক মুহূর্ত হয়ে রয়েছে। [11]
৮. আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার জয়সূচক গোল (২০১০)
দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছিল। [13, 31] যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটের দিকেই এগোচ্ছে, তখনই ১১৬ মিনিটে সেস ফ্যাব্রিগাসের পাস থেকে বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। [15, 32] এই এক গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ পায় স্পেন। [13]
৭. ক্রুয়েফ টার্নের জন্ম (১৯৭৪)
১৯৭৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের জোহান ক্রুয়েফ বিশ্বকে এক নতুন ফুটবল দক্ষতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যা 'ক্রুয়েফ টার্ন' নামে পরিচিতি পায়। [1, 16] সুইডেনের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার জ্যান ওলসনকে বোকা বানিয়ে তিনি এমন এক মোচড়ে বল নিয়ে বেরিয়ে যান, যা আজও অনুকরণীয়। [19] এই মুহূর্তটি নেদারল্যান্ডসের 'টোটাল ফুটবল' দর্শনের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং ক্রুয়েফের শৈল্পিক প্রতিভাকে ফুটবল ইতিহাসে অমর করে রাখে। [16, 38]
৬. জিওফ হার্স্টের বিতর্কিত গোল (১৯৬৬)
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ড ও পশ্চিম জার্মানি মুখোমুখি হয়েছিল। অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের একটি শট ক্রসবারে লেগে গোললাইনে ড্রপ করে। [2, 7, 10] রেফারি সহকারী লাইনসম্যানের সঙ্গে আলোচনার পর গোলটির সংকেত দেন, যা নিয়ে বিতর্ক আজও অমীমাংসিত। [14] এই গোলের সুবাদেই ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে জিতে তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে। [2, 22]
৫. পেলের আগমন (১৯৫৮)
মাত্র ১৭ বছর বয়সে পেলের বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল সুইডেনে। [20, 29] কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে করেন হ্যাটট্রিক এবং ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে করেন দুটি গোল। [27, 29] তার অবিশ্বাস্য দক্ষতা ও গোল করার ক্ষমতা ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ এনে দেয় এবং ফুটবল বিশ্ব একজন নতুন রাজার আগমন প্রত্যক্ষ করে। [26]
৪. মারিও গোতজের ফাইনালের গোল (২০১৪)
২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় জার্মানি ও আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। বদলি হিসেবে নামা মারিও গোতজে আন্দ্রে শুরলের পাস থেকে বল বুক দিয়ে নামিয়ে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করেন। সেই এক গোলই জার্মানিকে তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ এনে দেয় এবং লিওনেল মেসির স্বপ্নভঙ্গ করে।
৩. 'হ্যান্ড অফ গড' (১৯৮৬)
১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো মারাদোনার প্রথম গোলটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তগুলোর একটি। [23] গোলকিপার পিটার শিল্টনকে পরাস্ত করতে তিনি হাত দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। ম্যাচ শেষে মারাদোনা বলেছিলেন, গোলটি কিছুটা তার মাথা এবং কিছুটা 'ঈশ্বরের হাত' দিয়ে হয়েছে। [23] রেফারি হ্যান্ডবলটি দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বৈধতা পায় এবং আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে ম্যাচটি জেতে।
২. 'গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি' (১৯৮৬)
'হ্যান্ড অফ গড' গোলের মাত্র চার মিনিট পরেই মারাদোনা সেই ম্যাচেরই দ্বিতীয় গোলটি করেন, যা ফিফার ভোটে 'শতাব্দীর সেরা গোল' হিসেবে স্বীকৃত। [5, 17] প্রায় ৬০ গজ দূর থেকে বল নিয়ে তিনি পাঁচজন ইংলিশ খেলোয়াড় এবং গোলকিপারকে কাটিয়ে এক অবিশ্বাস্য গোল করেন। [33] এই গোলটি মারাদোনার একক প্রতিভা, গতি এবং নিয়ন্ত্রণের এক অসাধারণ নিদর্শন। [30]
১. মেসির বিশ্বকাপ জয় (২০২২)
ফুটবলের প্রায় সব শিরোপা জিতলেও বিশ্বকাপটা অধরা ছিল লিওনেল মেসির। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ফ্রান্সকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে ৩৬ বছর পর শিরোপা জেতে। [4, 25] ফাইনালে দুটি গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলেছেন মেসি এবং টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার 'গোল্ডেন বল' জেতেন। [25, 37] কোটি কোটি ভক্তের প্রার্থনা আর মেসির আজীবনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সেই মুহূর্ত বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা মুহূর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।







