পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যাচাই না করা
রাস্তার খাবার খাওয়ার আগে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো বিক্রেতা এবং তার চারপাশের পরিবেশ কতটা পরিষ্কার, তা দেখে নেওয়া। বিক্রেতা খালি হাতে খাবার ধরছেন, নাকি গ্লাভস ব্যবহার করছেন, তা খেয়াল করুন। যে পাত্রে খাবার তৈরি
বা পরিবেশন করা হচ্ছে, সেগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার কিনা, সেটাও জরুরি। এছাড়াও, দোকানের আশেপাশে আবর্জনা বা মাছি উড়তে দেখলে সেই দোকান এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ খাদ্যের গুণমান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়।
জল এবং বরফের উৎস উপেক্ষা করা
ফুড পয়জনিংয়ের অন্যতম বড় কারণ হলো দূষিত জল। অনেক সময় রাস্তার খাবারের দোকানগুলিতে যে জল ব্যবহার করা হয়, তা নিরাপদ উৎস থেকে আসে না। বিশেষ করে চাটনি, শরবত বা আখের রসে ব্যবহৃত বরফ এই দূষিত জল দিয়ে তৈরি হতে পারে। তাই রাস্তার ধারে পানীয় জল বা বরফ দেওয়া পানীয় এড়িয়ে চলুন। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি নিজের বাড়ি থেকে জলের বোতল নিয়ে বের হন বা নামী ব্র্যান্ডের বোতলজাত জল কিনে পান করেন।
কাঁচা বা আধসেদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া
যেসব খাবার ভালোভাবে রান্না করা হয়, তাতে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে। কারণ উচ্চ তাপে বেশিরভাগ ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস মারা যায়। তাই রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় গরম এবং সদ্য রান্না করা খাবার বেছে নিন। কাঁচা সালাদ, কেটে রাখা ফল বা আধসেদ্ধ মাংস বা ডিমের মতো খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এই ধরনের খাবারে সালমোনেলা বা ই. কোলাই-এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা গুরুতর খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
বাসি খাবার এবং আগে তৈরি চাটনি খাওয়া
অনেকক্ষণ ধরে তৈরি করে রাখা খাবার, বিশেষ করে গরমের দিনে, সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই যে দোকানে ভিড় বেশি, সেখান থেকে খাবার কেনা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। কারণ বেশি গ্রাহক মানে খাবার দ্রুত বিক্রি হয় এবং বাসি হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। একইভাবে, আগে থেকে বানিয়ে রাখা বিভিন্ন সস বা চাটনিতেও জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। সম্ভব হলে সদ্য তৈরি চাটনি বা সস দেওয়া খাবার খান অথবা এগুলো এড়িয়ে চলুন।
খাবার আগে নিজের হাত পরিষ্কার না করা
খাবারের গুণগত মানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাও সমান জরুরি। আমরা বাইরে ঘোরাঘুরির সময় বিভিন্ন জিনিস স্পর্শ করি, যার ফলে আমাদের হাতে জীবাণু লেগে থাকতে পারে। সেই অপরিষ্কার হাতে খাবার খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই রাস্তার খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন অথবা একটি ভালো মানের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। এই ছোট্ট অভ্যাসটি আপনাকে অনেক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।
অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া
রাস্তার অনেক খাবারেই অতিরিক্ত তেল এবং মশলা ব্যবহার করা হয়, যা হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, একই তেল বারবার ব্যবহার করে ভাজা খাবার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই ধরনের খাবার পেটে ব্যথা, গ্যাস বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যার কারণ হতে পারে, যা অনেক সময় ফুড পয়জনিং-এর লক্ষণের মতো মনে হয়। তাই চেষ্টা করুন হালকা এবং কম তেল-মশলাযুক্ত খাবার বেছে নিতে।














