যাত্রার আগে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি
যেকোনো পাহাড়ি যাত্রার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক পরিকল্পনা। প্রথমেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস ভালোভাবে জেনে নিন। যদি টানা ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকে, তবে যাত্রা পিছিয়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যে পথে
যাবেন, সেই রাস্তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিন। বর্ষার কারণে অনেক সময় রাস্তা বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত থাকতে পারে। সম্প্রতি দার্জিলিং এবং সিকিমের একাধিক এলাকায় ধস এবং রাস্তা বন্ধের ঘটনা ঘটেছে, তাই স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা জেনে নেওয়া জরুরি। আপনার গাড়িটিকে যাত্রার জন্য প্রস্তুত করুন। টায়ার, ব্রেক, ওয়াইপার এবং হেডলাইট অবশ্যই পরীক্ষা করে নিন। টায়ারের গ্রিপ ভালো না থাকলে ভেজা, পিচ্ছিল রাস্তায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বাড়িতে বা পরিচিত কাউকে আপনার সম্পূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা, যাত্রার পথ এবং সম্ভাব্য ফেরার তারিখ জানিয়ে রাখুন।
গাড়ি চালানোর সময় বিশেষ সতর্কতা
পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানো সমতলের থেকে অনেকটাই আলাদা, আর বর্ষায় তা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাস্তার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে জরুরি। ভেজা রাস্তায় গাড়ির চাকা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই স্বাভাবিকের চেয়ে কম গতিতে গাড়ি চালান। খাড়া ঢাল বা বাঁকের মুখে হর্ন বাজিয়ে চলুন। সামনের গাড়ির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা আবশ্যক, কারণ ভেজা রাস্তায় ব্রেক কষলে গাড়ি থামতে বেশি সময় লাগে। পাহাড়ি পথে সরু রাস্তায় ওভারটেক করা থেকে বিরত থাকুন, বিশেষ করে বাঁকের মুখে। একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি না চালিয়ে মাঝে মাঝে বিরতি নিন। যদি রাস্তায় ধসের সামান্যতম চিহ্ন, যেমন পাথর বা কাদার স্রোত দেখতে পান, সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে নিরাপদ দূরত্বে ফিরে যান।
জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন?
সমস্ত সতর্কতা সত্ত্বেও আপনি ধসের কবলে পড়তে পারেন। যদি দেখেন ভূমিধস হচ্ছে, যত দ্রুত সম্ভব সেই স্থান ত্যাগ করুন। গাড়িতে থাকলে, ইঞ্জিন বন্ধ করে বেরিয়ে আসুন এবং উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিন। ধসের সময় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির কাছাকাছি থাকবেন না। যদি কাদায় আটকে যান,冷静 থাকুন এবং সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করুন। আপনার অবস্থান সম্পর্কে জরুরি পরিষেবা বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতই ভূমিধসের অন্যতম প্রধান কারণ, তাই একটানা বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢালের কাছাকাছি থাকা এড়িয়ে চলুন।
ব্যাগে কী কী থাকা আবশ্যক?
বর্ষায় রোড ট্রিপের জন্য একটি জরুরি কিট প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাগে অবশ্যই একটি ওয়াটারপ্রুফ জ্যাকেট বা রেইনকোট এবং ছাতা রাখুন। জুতোও ওয়াটারপ্রুফ এবং ভালো গ্রিপযুক্ত হওয়া দরকার। টর্চলাইট, পাওয়ার ব্যাংক, ফার্স্ট এইড বক্স ও কিছু শুকনো খাবার সঙ্গে নিন। হঠাৎ রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে এই জিনিসগুলো কাজে আসবে। মোবাইল, ক্যামেরা বা অন্য গ্যাজেট সুরক্ষিত রাখতে জিপলক ব্যাগ বা ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ ব্যবহার করুন। গাড়ির জন্য একটি পোর্টেবল টায়ার ইনফ্লেটর এবং টোয়িং রোপ রাখা যেতে পারে। এছাড়াও, জোঁকের উপদ্রব থেকে বাঁচতে সঙ্গে লবণ বা গুল রাখতে পারেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় জল সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।










