সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
বিশ্বকাপের মঞ্চে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি এখন মেসির দখলে। ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ছয়টি বিশ্বকাপে তিনি মোট ৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন। এই রেকর্ড ভাঙতে হলে একজন খেলোয়াড়কে অন্তত পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলতে হবে
এবং প্রতিবারই নকআউট পর্বের গভীরে যেতে হবে, যা এককথায় অবিশ্বাস্য।
দুটি গোল্ডেন বল
লিওনেল মেসি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার 'গোল্ডেন বল' জিতেছেন। ২০১৪ এবং ২০২২ সালে তিনি এই সম্মান অর্জন করেন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে দুবার স্বীকৃতি পাওয়া প্রমাণ করে বিভিন্ন আসরে তার ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্ব। এই রেকর্ডটি ভাঙা তো দূরের কথা, এর কাছাকাছি আসাও কঠিন।
সবচেয়ে বেশি গোল অবদান
বিশ্বকাপে গোল করা এবং করানো, দুটি বিভাগেই মেসি অসামান্য। তিনি মোট ২১টি গোল এবং ১২টি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা মিলিয়ে তার মোট গোল অবদান ৩৩। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই রেকর্ডটি তার দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স এবং দলের খেলায় প্রভাব ফেলার ক্ষমতার চূড়ান্ত নিদর্শন।
সবচেয়ে বেশি প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার 'প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ' হওয়ার রেকর্ডটিও মেসির। তিনি মোট ১৫ বার এই পুরস্কার জিতেছেন, যা তার খেলা ম্যাচগুলোর প্রায় অর্ধেক। এটি প্রমাণ করে যে তিনি শুধু খেলেনই না, প্রতিটি ম্যাচে নিজের ছাপ রেখে যান। এই ধারাবাহিকতা অন্য কোনো খেলোয়াড়ের জন্য অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।
একমাত্র খেলোয়াড় যিনি সব নকআউট পর্বে গোল করেছেন
২০২২ বিশ্বকাপে মেসি এক অনন্য রেকর্ড গড়েন। তিনি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি একটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, রাউন্ড অফ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে গোল করেছেন। বড় মঞ্চে এমন ধারাবাহিক গোল করার ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। এই রেকর্ডটি ভাঙতে হলে একজন খেলোয়াড়কে একইসাথে গোল স্কোরার এবং দলের মূল চালিকাশক্তি হতে হবে।
সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকা
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলার রেকর্ডটিও এখন মেসির। তিনি ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনির ২, ২১৪ মিনিটের রেকর্ড ভেঙে ২,৭২৪ মিনিট মাঠে ছিলেন। এই রেকর্ডটি তার ফিটনেস, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং দলের জন্য তার অপরিহার্যতার প্রমাণ দেয়। ছয়টি বিশ্বকাপ জুড়ে প্রায় প্রতিটি ম্যাচের পুরো সময় মাঠে থাকা এক কথায় অবিশ্বাস্য।
অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
অধিনায়ক হিসেবে দলকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ডও মেসির। তিনি ১৯টি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা মেক্সিকোর রাফায়েল মার্কেজ এবং স্বদেশী ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে গেছে। একজন খেলোয়াড়ের উপর দলের আস্থা এবং তার নেতৃত্বের গুণাবলী ছাড়া এই রেকর্ড গড়া সম্ভব নয়।
সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট
গোল করার পাশাপাশি মেসি গোল করাতেও পারদর্শী। বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১২, যা তাকে এই তালিকার শীর্ষে রাখে। তিনি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করেছেন। এই রেকর্ডটি প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একজন গোল স্কোরার নন, একজন অসাধারণ প্লেমেকারও বটে।
প্রথম ও শেষ গোলের মধ্যে দীর্ঘতম ব্যবধান
মেসির প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি ছিল ২০০৬ সালে সার্বিয়ার বিপক্ষে এবং তার শেষ গোলটি ২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে। এই দুটি গোলের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল ১৬ বছর ৬ মাস ২ দিন। এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার এবং গোল করার ক্ষমতা এই রেকর্ডটিকে প্রায় অটুট করে তুলেছে।
কনিষ্ঠ ও বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে এক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট
মেসি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী (২০০৬ সালে ১৮ বছর) এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী (২০২২ সালে ৩৫ বছর) হিসেবে একটি ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্ট উভয়ই করেছেন। এই রেকর্ডটি তার দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রতীক। কৈশোর থেকে শুরু করে ক্যারিয়ারের শেষভাগ পর্যন্ত তিনি দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন, এটি তারই প্রমাণ।










