নিউ ইয়র্ক: নিউ জার্সি স্টেডিয়াম এক দুঃস্বপ্নের রাত খালি হাতে ফিরিয়েছিল লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi)। অবসর নিয়েছিলেন 'এলএম১০'। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। একাধিকবার কোপা আমেরিকা জেতা থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন,
জাতীয় দলের জার্সি গায়ে সবই জিতেছেন মেসি। তবে সেই অবসর ঘোষণা করার এক দশক পূর্ণ হওয়ার পর ফের অশ্রুজলে খালি হাতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর স্টেডিয়াম ছাড়লেন মতান্তরে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার। বিশ্বকাপ ফাইনাল (FIFA World Cup 2026) হারল মেসির আর্জেন্তিনা।
সপ্তাহান্তে বিশ্ব ফুটবলের সবথেকে বড় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও আর্জেন্তিনা (Spain vs Argentina)। ইউরো চ্যাম্পিয়ন এবং লাতিন আমেরিকান তথা সদ্য প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মধ্যে এক টানটান লড়াইয়ের আশা করেছিলেন সকলে। তবে কোথায় কী! ম্যাচের স্কোরলাইন স্পেনের পক্ষে ১-০ দেখালেও কার্যত একপেশে এক ম্যাচের সাক্ষী থাকল ফুটবলবিশ্ব। শুরু থেকেই অতিরক্ষণাত্মক ফুটবল খেলল লা আলবিসেলেস্তে। নির্ধারিত সময়ের শেষ লগ্নে এনজ়ো ফার্নান্ডেজ়ের লাল কার্ডের পর যেন আরও খোলসের মধ্যে ঢুকে পড়ল লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণে ঝাঁঝরা হচ্ছিল আর্জেন্তিনা। তবে চ্যাম্পিয়নদের মানসিকতা, যা বারংবার পরাজয়ের মুখ থেকে এই বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনাকে জয় ছিনিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল, সেই হার না মানা মনোভব এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ়ের সুবাদে ম্যাচে টিকে ছিল আর্জেন্তিনা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। মার্তিনেজ় রেকর্ড সংখ্যক সেভ করলেন, লিওনেল মেসি প্রথম ফুটবলার হিসাবে তিন তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালের অধিনায়ক হিসাবে মাঠে নেমে এবং শুরু থেকে খেলে ইতিহাস গড়লেন। তাও পরাজিতই হতে হল লাতিন আমেরিকান দলকে। গোটা নব্বই মিনিটে আর্জেন্তিনা গোল লক্ষ করে একটি শটও মারল না, যা এর আগে কোনদিন কোনও বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনও দলের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।
অপরদিকে, স্পেন এদিন শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল না, লা রোহা বিশ্বকাপ জিতল ইতিহাস গড়ে। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল, তাদের সুবর্ণ অধ্যায়ের শুরুতে মোট ৩৫টি ম্যাচে অপরাজিত থেকেছিল স্পেন। তবে বিশ্বকাপ ফাইনাল জিতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিল তারা। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইতালির ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে মোট ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ইতিহাস গড়ল স্পেন।
এই বিশ্বজয়ের ভিত্তি স্পেনের জমাট রক্ষণ। যে রক্ষণে ভর করেও ইতিহাস রচনা করল বুল ফাইটিংয়ের দেশ। এ বারের বিশ্বকাপের আট ম্যাচে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করল। এত কমসংখ্যক গোল খেয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব এর আগে আর কোনও দেশের নেই।
আবার নাগাড়ে দুই ফাইনাল খেলার পর এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই ছিটকে যাওয়া ফ্রান্স মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপেও এদিন মাঠে না নেমেই ইতিহাস গড়লেন। তৃতীয় স্থান দখলের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এমবাপে গোল্ডেন বুট-র দৌড়ে মেসিকে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন। মেসি বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করতে ব্য়র্থ হওয়ায় ২০২২ সালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে গোল্ডেন বুট উঠল এমবাপের হাতেই। তিনিই ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসাবে একাধিক বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতলেন।






